গ্যাংটক: মৃত্যুফাঁদ সুরঙ্গ! সিকিমের নামচি জেলার সামারডুং এলাকায় এনএইচপিসি (NHPC)-র তিস্তা স্টেজ-VI জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ভয়াবহ ধসের (Sikkim tunnel collapse) ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০। সোমবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও পাঁচজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক উদ্ধারকারী দল।
নামচির পুলিশ সুপার সোনম ডি ভুটিয়া জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার (Sikkim tunnel collapse) সময় মোট ২৫ জন শ্রমিক ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মী সুড়ঙ্গের ভিতরে কাজ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১২টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
সুড়ঙ্গের (Sikkim tunnel collapse) ভিতরে আটকে থাকা পাঁচজন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের আশায় দিন-রাত এক করে অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় ও রাজ্য স্তরের একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা। ধসের কারণে সুড়ঙ্গের ভিতরে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ (Sikkim tunnel collapse) জমে থাকায় উদ্ধারকাজে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এনএইচপিসি-র প্রাথমিক অনুমান, পাথরের মধ্যে জমে থাকা মিথেন গ্যাসের আকস্মিক বিস্ফোরণের জেরেই সুড়ঙ্গে ধস নামে। বিস্ফোরণের পর সুড়ঙ্গের ভিতরে ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিশেষ খনি উদ্ধারকারী দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযানে যোগ দিয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং জানান, মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণ এবং সুড়ঙ্গ ধসের (Sikkim tunnel collapse) প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকার মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে উদ্ধারকাজে কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। কেন্দ্রের তরফে মৃতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।


