নয়াদিল্লি: মঙ্গলবারও বহাল ককরোচদের সংসদ অভিযানের রেশ! এদিন ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের (CJP protest) সমর্থনে সরাসরি নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে নামেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, অখিলেশ যাদব সহ বিরোধী জোটের একাধিক নেতা। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে পৌঁছতেই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) রাস্তার উপর বসে ধর্নায় সামিল হন এবং পুলিশি অনুরোধ সত্ত্বেও সেখান থেকে উঠতে অস্বীকার করেন। সূত্রের খবর, তিনি রাতভর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন।
তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই পুলিশ অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী নেতাদের একে একে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাহুলকে (Rahul Gandhi) ঘিরে ছিলেন অন্তত ১০ জন পুলিশকর্মী। দীর্ঘ সময় ধর্নায় অনড় থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাঁকে জোর করে তুলে একটি পুলিশ বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
কংগ্রেসের স্পষ্ট দাবী, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা। কংগ্রেস সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন জানান, দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং আরও সাংসদ ও সাধারণ মানুষ এতে যোগ দেবেন। এদিন দুপুরে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) এক্সে পোস্ট করেন, “গতকাল তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নৃশংসতার বিষয়ে জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাসভবনের দিকে মিছিল করেছি। সরকার কোনো দায়ভার নিতে চায় না এবং এ বিষয়ে সংসদে কোনো আলোচনাও করতে চায় না।ভারতের তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।”
X link: https://x.com/RahulGandhi/status/2079509012538876206
অন্যদিকে, জিতেন্দ্র সিং দাবি করেন, প্রথমে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) শুধু সংসদে আলোচনার দাবি তুললেও পরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকেও শর্ত হিসেবে যোগ করেন। এই অচলাবস্থার পরই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরানোর অভিযান শুরু করে এবং রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে নিয়ে যায়। এখন প্রশ্ন একটাই, ককরোচদের ‘অরাজনৈতিক’ আন্দোলনে কি শেষমেশ রাজনীতির রং লেগেই গেল? না-কি তাঁদের এতদিন ধরে চালিয়ে যাওয়া ন্যায্য দাবীর আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ হয়ে গেল?


