Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: গোবরডাঙা থেকে দুই বোন নাচের ক্লাসে যাচ্ছিলেন। ট্রেনে ভিড়ের কারণে ভুলবশত তাঁরা ভেন্ডার কামরায় উঠে পড়েন। বনগাঁ স্টেশনে (Bongaon Station) নামার পর এক টিকিট পরীক্ষক (TTE) তাঁদের আটকান। অভিযোগ, এরপর যা ঘটে তা শুধু নিয়ম ভঙ্গের জরিমানা নয়, বরং অপমান, ভয় দেখানো এবং অসভ্য আচরণের ঘটনায় পরিণত হয়।
ঋত্বিকা সাহা নামে ১৯ বছরের এক তরুণী এবং তাঁর ১৭ বছরের বোনকে টিটিই টিকিট দেখাতে বলেন। তাঁরা বৈধ টিকিট দেখালেও টিটিই জানান, ভেন্ডার কামরায় যাত্রা করার জন্য তাঁদের প্রত্যেককে আড়াই হাজার টাকা করে মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।
ঋত্বিকার দাবি, তিনি জানান তাঁর কাছে এত টাকা নেই। এরপর টিটিই তাঁদের একটি ঘরে নিয়ে যান এবং তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে ফোনপে খুলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য জানার চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে মাকে ফোন করতে বলা হয়।
তরুণীর অভিযোগ, তাঁর মা ফোনে কথা বলার সময়ও টিটিই অত্যন্ত খারাপ ভাষায় কথা বলেন। এমনকি ফোন কেটে যাওয়ার পর টিটিই নাকি অশালীন ও অপমানজনক মন্তব্য করেন। এরপরই টিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে বলতে গিয়ে তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে তরুণী বলেন, “আমার মা ফোন রেখে দেওয়ার পর উনি বলেন মা বলেছেন তোমাদের রেখে দিতে। আমি একজনকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করব, একজনকে সারারাত নাচ করাবো। আমার শিক্ষক ফোন করলে তাঁর সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন। ওনার কথা বলার ভিডিয়ো করেছিলাম, কিন্তু আমার ফোন নিয়ে সেগুলো ডিলিটও করে দেন।”ঋত্বিকা আরও দাবি করেন, তাঁর নাচের শিক্ষক ফোন করলে তাঁর সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়।
এই ঘটনার পর ১৮ জুলাই বনগাঁ জিআরপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ঋত্বিকা। পরে তিনি তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য দেন। ঋত্বিকার মা যুথিকা সাহা বলেন, “আজ আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে, কাল অন্য কারও মেয়ের সঙ্গেও হতে পারে। আমি চাই অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি হোক। রেলের কর্মচারীর কাছেই যদি মেয়েরা নিরাপদ না থাকে, তাহলে তারা কোথায় নিরাপদ থাকবে?”পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত টিটিইর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জিআরপি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


