Aaj India Desk, কলকাতা : কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে উদ্বোধন হল দেশের প্রথম ভাষা-ভিত্তিক জাদুঘর ‘শব্দালোক’ (Shabdolok)। রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। ভারতের ভাষার ইতিহাস, বিবর্তন এবং বহুভাষিক ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে তাঁকে একটি চিঠি দিয়েছেন অমিত শাহ। তবে চিঠিতে কী রয়েছে, তা তিনি প্রকাশ করেননি। সোমবার বিধানসভায় তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন বলে জানান।
কী রয়েছে ‘শব্দালোক’-এ?
শব্দালোক (Shabdolok) জাদুঘরে তৈরি হয়েছে মোট ৯টি গ্যালারি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘ভাষার সময়রেখা’। এখানে ভারতের ২২ টি স্বীকৃত ভাষার জন্ম, বিকাশ এবং বৈচিত্র্য আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে ‘শব্দালোক’। ভাষা, সাহিত্য, প্রাচীন পাণ্ডুলিপি এবং দেশের ভাষাগত ঐতিহ্য সংরক্ষণই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
ভাষণে উঠে এলো বাংলা ভাষার গুরুত্ব
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’ এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাংলা গদ্যে অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
দেশের প্রথম ভাষা-ভিত্তিক জাদুঘর ‘শব্দালোক’-এর উদ্বোধনে এসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। তিনি বলেন, ভাষাই মানুষের পরিচয় ও সংস্কৃতির ভিত্তি। তাঁর কথায়, “মানুষ ভাষাকে তৈরি করেনি, ভাষাই মানুষকে তৈরি করেছে।” মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরে শাহ সকলকে নিজের ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করার আহ্বান জানান।
কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগের বার্তা
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এবার থেকে উন্নয়নের পাশাপাশি ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগের সুফল সাধারণ মানুষও পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশের প্রথম ভাষা-ভিত্তিক জাদুঘর হিসেবে ‘শব্দালোক’ (Shabdolok) ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে এক জায়গায় তুলে ধরবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাস সহজভাবে পৌঁছে দিতে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।


