কলকাতা: ২১ দিনে পা রাখতেই অনশন রত সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk) তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবী, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতেই পরিবেশবিদ-বিজ্ঞানীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই নিয়ে নিজের সমাজমাধ্যমে কেন্দ্র সরকারকে তুলোধোনা করলেন মমতা (Mamata Banerjee)।
ফেসবুক পোস্টে মমতা লেখেন, গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান জানানো উচিত। ভিন্নমতের কণ্ঠস্বরকে নীরব করে দেওয়া বা উপেক্ষা করা কোনও গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না। তাঁর দাবি, সোনম ওয়াংচুকের কণ্ঠস্বর যেমন উপেক্ষিত হয়েছে, তেমনই দেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণীর বক্তব্যও গুরুত্ব পাচ্ছে না।
সোনমের চিকিৎসা নিয়েও কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি (Mamata Banerjee) বলেন, প্রয়োজনে সোনমকে (Sonam Wangchuk) একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হোক। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার খরচ সাধারণ মানুষ বহন করতেও প্রস্তুত থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর মতে, সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান করার মাধ্যমে; শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন বা সংলাপ এড়িয়ে নয়।পোস্টের শেষাংশে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মমতা (Mamata Banerjee) লেখেন, “যে সরকার ভিন্নমতকে গণতান্ত্রিক দায়িত্ব হিসেবে না দেখে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে, তারা জবাবদিহি এড়িয়ে মানুষের বিশ্বাস দাবি করতে পারে না।”
প্রসঙ্গত, ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে কেন্দ্রের কোনোরকম যোগাযোগ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কালীঘাট তৃণমূল সহ একাধিক বিরোধী দল। শুক্রবার এই নিরিখে বিধানসভার বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ করেন কুণাল ঘোষরা। কেন্দ্রের মৌনতা নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন সাংসদ মহুয়া মিত্রও। অন্যদিকে, সোনমকে (Sonam Wangchuk) সরানো হতেই যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসে গিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।


