Aaj India Desk, কলকাতা : ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এল। এই বছর শহীদ দিবস পালন করতে উঠে পড়ে লেগেছে চার দল। চারটি আলাদা জায়গায় চারটি শহীদ স্মরণ সভা করবে কংগ্রেস, কালীঘাট তৃনমূল, ঋতব্রত তৃনমূল এবং এনসিপিআই। তবে তার আগেই এবার তৃনমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করলেন। তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে ২১ জুলাই পালন করার চেষ্টা কোনোমতেই সম্ভব নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) লেখেন, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের আন্দোলন, পুলিশ গুলি চালানোর ঘটনা, শহিদ পরিবারের পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা এবং প্রতিবছর শহিদ স্মরণ—সব মিলিয়ে এই দিনটির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াই ও নেতৃত্ব অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১৯৯৩ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত যাঁরা এই কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় ছিলেন না, তাঁরা এখন কেন আলাদা করে ২১ জুলাই পালনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। পোস্টে তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁরা যেন “দিদির ডাকে” বিড়লা তারামণ্ডলের সভায় যোগ দেন এবং “চক্রান্তকারীদের” বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
এর আগে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় জেলা থেকে আসা কর্মীদের একটি নির্দিষ্ট ব্যাজ পরতে বলা হয়েছে। ব্যাজ ছাড়া কেউ এলে পুলিশ তাঁকে আটকাতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে ঋতব্রত তৃনমূল দলের পক্ষে কোনও দায়িত্ব নেওয়া হবে না। সেই অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার নেতাদের কাছে শত শত থেকে কয়েক হাজার ব্যাজ পাঠানো হয়েছে।
কালীঘাট-ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই ব্যাজ ব্যবস্থার ফলে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে কোন কর্মী ঋতব্রতদের সভায় যাচ্ছেন এবং কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। ওই সূত্রের আশঙ্কা, এর জেরে পথে কর্মীদের আটকে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) আবেগঘন বার্তা কি শুধুই ২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরার চেষ্টা, নাকি সম্ভাব্য কর্মী-ঘাটতি বা পথে বাধার আশঙ্কার আগাম রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তৈরি করার কৌশল?


