কলকাতা: বাঁকড়া মসজিদ (Bankra Mosque) বিতর্কের আগুনে ঘৃতাহুতি দিলেন জমিয়ত উলেমা এ হিন্দের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী (Siddiqullah Chowdhury)। বৃহস্পতিবার ঘোষণা করলেন, আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার সকাল ১১ টায় বাঁকড়া মদজিদে নামাজ পড়তে যাবেন তিনি! তাতে বাধা দিলে হবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ! তবে কোনও ধরনের মাইকিং, রাস্তা অবরোধ বা ধর্না কর্মসূচি হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
অন্যদিকে, এই ইস্যুতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি ধর্মীয় নয়, নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। তাঁর দাবি, ওই জায়গায় মসজিদের বদলে হনুমানজির মন্দির থাকলেও সেটিকেও একই কারণে সরানো হত।
কি বললেন সিদ্দিকুল্লা?
বৃহস্পতিবার বাঁকড়া মসজিদ (Bankra Mosque) ইস্যুতে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যাজ পরে শান্তিপূর্ণভাবে জুম্মার নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাবেন। তাঁর দাবি, কোনও মিছিল, বিক্ষোভ, মাইকিং বা অশান্তির পরিকল্পনা নেই।
তিনি (Siddiqullah Chowdhury) কেন্দ্রের একটি সরকারি চিঠি দেখিয়ে দাবি করেন, এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া অতীতে মসজিদে নামাজ ও রমজানে ইফতারের অনুমতি দিয়েছিল এবং সেই সংক্রান্ত নথি তাঁদের কাছে রয়েছে। একইসঙ্গে অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য বিমানবন্দর ও থানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনও সাড়া মেলেনি। তবুও তাঁরা সম্পূর্ণ আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে শুধু নামাজ আদায় করবেন বলে জানান।
প্রসঙ্গত, দমদম বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য বাঁকড়া মসজিদটি (Bankra Mosque) স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেখানে নিয়মিত নামাজ পড়া বন্ধ রয়েছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদটি অন্যত্র সরানো প্রয়োজন।বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, রানওয়ে-সংলগ্ন এই মসজিদ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একাধিক জটিলতা তৈরি করছে।
তাঁদের বক্তব্য, নামাজ পড়তে আসা ব্যক্তিদের জন্য কোনও বৈধ বিমানবন্দর প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয় না। আধার কার্ড দেখিয়েই তাঁরা রানওয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যান। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, রানওয়ে থেকে যে কোনও স্থায়ী কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব ২৪০ মিটার হওয়া উচিত। অথচ বাঁকড়া মসজিদটি (Bankra Mosque) দ্বিতীয় রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসনের। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হতে পারে বলেই প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। এখন নজর জুম্মাবারে।


