Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : লাদাখের পরিবেশকর্মী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) অনির্দিষ্টকালের অনশনের আজ ১৯তম দিন। চিকিৎসকদের দাবি, ইতিমধ্যেই তাঁর ওজন ৯ কেজির বেশি কমেছে। আপাতত শারীরিকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও, অনশন দীর্ঘায়িত হলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকেরা। এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ ওয়াংচুকের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করেছেন।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা
ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) স্বাস্থ্য সম্পর্কে আপডেট দিয়ে চিকিৎসক ডা. সতীশ লাম্বা জানান, অনশনের ১৯তম দিনে তাঁর মোট ওজন কমেছে ৯ কেজিরও বেশি। বর্তমানে তাঁর ওজন ৫৬.৯ কেজি। রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার, পালস ৭২ বিট প্রতি মিনিট এবং রক্তচাপ শোয়া অবস্থায় ১০৫/৬১ ও বসা অবস্থায় ১০১/৬৫ মিলিমিটার পারদ। আপাতত তাঁর শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ গুরুতর নয় এবং তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছেন। তবে চিকিৎসকদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে অনশন চলতে থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হতে পারে। সে কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
অনশন ভাঙতে নারাজ ওয়াংচুক
একাধিক রাজনৈতিক নেতা, সমর্থক এবং আইনি মহল থেকে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন এলেও তা মানতে রাজি নন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর বক্তব্য, সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া ছাড়া অনশন ভাঙলে ভুল বার্তা যাবে।
একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমি যদি এখন খেয়ে ফেলি, তাহলে সরকারের কাছে বার্তা যাবে যে জবাবদিহির প্রয়োজন নেই। মানুষ প্রতিবাদে বসবে, পরে উঠে যাবে।” তিনি আরও জানান, হাজার হাজার মানুষ তাঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ করেছেন এবং একাধিক প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাও ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন।
বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মহুয়া
ওয়াংচুকের অনশনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র এক্স-এ লিখেছেন, তিনি ওয়াংচুকের পাশে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টিকে বিরোধী দলের নেতাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, শিক্ষা সংক্রান্ত ইস্যুতে বিরোধী দলের নেতা শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন এবং ধারাবাহিকভাবে সেই অবস্থান বজায় রেখেছেন।
অনশন ১৯ দিনে পৌঁছলেও এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে ওয়াংচুকের মূল দাবিগুলি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সমাধানের ইঙ্গিত মেলেনি। এদিকে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে চিকিৎসক, সমর্থক এবং রাজনৈতিক মহলের।


