27.8 C
Kolkata
Monday, July 13, 2026
spot_img

‘দাগি’ প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের ‘গদি কাড়ার’ বিল নিয়ে বড় আপডেট! জেপিসির রিপোর্টে চমক

নয়াদিল্লি: ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের পদ থেকে অপসারণ (PM-CM removal) সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিল নিয়ে চরম বিতর্ক হয়েছে। ভুয়ো মামলা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের ফাঁসানো হতে পারে বলে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা। সেই বিলে বড় পরিবর্তনের সুপারিশ করল যৌথ সংসদীয় কমিটি (JPC)।

কেন্দ্রের আনা বিলে যেখানে টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকলে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক পদাধিকারীকে অপসারণের প্রস্তাব ছিল, সেখানে জেপিসি সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি। পরিবর্তে, অভিযুক্তদের ‘অপসারণ’ (PM-CM removal) নয়, ‘সাসপেন্ড’ করার সুপারিশ করেছে কমিটি (JPC)। সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ পর্যালোচনার পর জেপিসি তাদের রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছে।

আগামী সপ্তাহেই সেই রিপোর্ট সংসদে জমা দেওয়া হতে পারে। কমিটির মতে, বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে স্থায়ীভাবে পদচ্যুত (PM-CM removal) করা উচিত নয়। তাই বিলে ব্যবহৃত ‘Removal’ (অপসারণ) শব্দের পরিবর্তে ‘Suspension’ (সাসপেনশন) শব্দটি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

জেপিসি (JPC) আরও বলেছে, যদি কোনও মন্ত্রী বা সাংবিধানিক পদাধিকারী পরে আদালতে বেকসুর খালাস পান, তাহলে তাঁর সাসপেনশনও প্রত্যাহার করা উচিত। অর্থাৎ, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগেই স্থায়ীভাবে পদচ্যুত করার পক্ষে নয় সংসদীয় কমিটি।

রিপোর্টে ‘গুরুতর অপরাধ’-এর সংজ্ঞাও স্পষ্ট করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির মতে, যেসব অপরাধে ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, সেগুলিকেই গুরুতর অপরাধ হিসেবে ধরা উচিত। এ ধরনের অপরাধের একটি পৃথক তালিকা তৈরিরও পরামর্শ দিয়েছে জেপিসি (JPC), যাতে আইন প্রয়োগে কোনও অস্পষ্টতা না থাকে।

এছাড়াও সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের সুপারিশ করেছে কমিটি। তাদের মতে, দীর্ঘদিন বিচার ঝুলে থাকলে প্রশাসনিক কাজ এবং জনজীবন, দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ে। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচার শেষ করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত বিলটি প্রথম থেকেই রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল। একদিকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্ন, অন্যদিকে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে পদচ্যুতির সাংবিধানিক বৈধতা, এই দুই বিষয়কে সামনে রেখেই জেপিসি তাদের সুপারিশ তৈরি করেছে।

এখন নজর সংসদের দিকে। আগামী সপ্তাহে রিপোর্ট পেশ হওয়ার পর সরকার জেপিসির সুপারিশ মেনে বিলে সংশোধন আনে কি না, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন