Aaj India Desk, কলকাতা : মমতার ‘কেষ্ট’ থেকে সরাসরি ঋতব্রত শিবিরে ‘নতুন ব্রত’ নিলেন অনুব্রত (Anubrata Mandal)। রাজনৈতিক পালাবদলের এই অধ্যায়ের নেপথ্যে কী শুধুই ক্ষমতার অঙ্ক, নাকি বছরের পর বছর জমে থাকা না-পাওয়ার ক্ষোভ আর অভিমান? নতুন শিবিরে যোগ দিয়ে নিজের মুখেই দলবদলের কারণ স্পষ্ট করলেন বীরভূমের নেতা।
গত শনিবার রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’-এ যোগ দেন বীরভূমের নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। নতুন শিবিরে যোগ দেওয়ার পরই তাঁকে বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “দলকে কি আমি কম ভালবেসেছি? কখনও বিধায়ক হই নাই, সাংসদ হই নাই, মন্ত্রী হই নাই। দলকে কেবল দিয়েই গিয়েছি, বিনিময়ে কিছু চাই নাই।” তাঁর দাবি, জেলে যাওয়ার সময়ও তিনি জেলা সভাপতি ছিলেন। কিন্তু জেল থেকে মুক্তির পর অকারণেই সেই দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, কী কারণে তাঁকে এই সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি পাননি। তিনি স্পষ্ট জিজ্ঞেস করেন, “হঠাৎ ‘আউট’ করে দেওয়া হল! আমার অপরাধটা কী ছিল? কী দোষ করেছিলাম আমি?”
সাংগঠনিক পরিচালনায় আই-প্যাকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। তাঁর বক্তব্য, ২০০৯, ২০১১, ২০১৪ বা ২০১৬ সালের নির্বাচনে আই-প্যাক ছিল না, তবুও দল সফলভাবে চলেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা বাইরে থেকে এসে বোঝা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কর্পোরেট ধাঁচে রাজনৈতিক সংগঠন পরিচালনা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের সংগঠনকে সেইভাবে চালানো যায় না। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসকে রক্ত-জল করে গড়ে তুলেছিলাম, তাই আজ দলের এই হাল দেখে বুকে আঘাত লাগে।”
তবে শিবির বদলালেও হৃদয় বদলায়নি তাঁর। নিজের দীর্ঘদিনের অভিমান প্রকাশ করেও তিনি স্পষ্ট বলেন, দলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তাঁর ক্ষোভ থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি এখনও আগের মতোই ‘মনে-প্রাণে’ সম্মান করেন এবং ভালোবাসেন।


