Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগণা : কাটমানির ‘পে-ব্যাক’! ফলতার বেলসিংহা অঞ্চলে গ্রামবাসীদের হাতে ফিরল প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা। সরকারি প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে নেওয়া এই অর্থ পলাতক তৃণমূল নেতা গুরুপদ মণ্ডলের পরিবারের পক্ষ থেকেই ফেরত দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে ফলতায়। (CutMoney Recovery)
শনিবার বনহোগলা গ্রামে বেলসিংহা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কাকলি মালির উপস্থিতিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, যাঁদের কাছ থেকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হয়েছিল, তাঁদেরকে একে একে সেই অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এদিন প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। (CutMoney Recovery)
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফলতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত গুরুপদ মণ্ডল দীর্ঘদিন বেলসিংহা অঞ্চলের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। সেখানে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি ও তোলাবাজির একটি চক্র গড়ে উঠেছিল। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আবাস যোজনার একটি বাড়ির জন্য সরকারিভাবে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেই টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। আবার কারও কাছ থেকে ৪০ হাজার, ৩০ হাজার বা ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, আমফান ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও কাটমানি নেওয়া হয়েছিল। একটি বুথ থেকেই ২৫ লক্ষ টাকারও বেশি কাটমানি তোলা হয়েছিল বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। (CutMoney Recovery)
রাজনৈতিক পালাবদলের পর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে এবং কাটমানির টাকা ফেরতের দাবি ওঠে। এরপর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আইনি ব্যবস্থার আশঙ্কায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে তাঁদের দাবি।
অন্যদিকে ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পান্ডার দাবি, “জাহাঙ্গীর খানের নেতৃত্বে গুরুপদ মণ্ডল-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করেছেন। মানুষের ক্ষোভ এবং আইনের ভয়েই এখন সেই টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে।”
তবে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হলেও, অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা দাবির মধ্যেই ফলতায় কাটমানি ফেরতের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নজর বেড়েছে।


