Aaj India Desk, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: বারুইপুরে (Baruipur Case) নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় যাতে আর কোনও অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। গণপিটুনির ঘটনায় জড়িত থাকা এবং হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আগে পাঁচজনকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আরও তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বারুইপুর জেলা পুলিশ, এসটিএফ (STF) এবং স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (SGO) যৌথভাবে এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে এই অভিযান চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও ধরপাকড় ও তল্লাশি অভিযান চলছে। নতুন করে তিনজন গ্রেফতার হওয়ায় এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮। তদন্ত যত এগোবে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। এদিকে শনিবার বারুইপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। সেখানে তিনি সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করবেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের এক নাবালিকা। পরদিন সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, মেয়েটিকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে। পরে এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়।
নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর রবিবার সূর্যপুরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ। রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ চলাকালীন গুজব ও সন্দেহের জেরে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নিহত যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই গণপিটুনির ঘটনার পিছনে পরিকল্পিত উসকানি বা সাম্প্রদায়িক চক্রান্তের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর নির্দেশের পরই পুলিশ আরও সক্রিয় হয়। হিংসায় জড়িতদের শনাক্ত করতে শুরু হয় বিশেষ অভিযান। প্রথম দফায় ১৮ জন এবং পরে আরও ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ তিনজন ধরা পড়ায় মোট গ্রেফতারির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮।
পুলিশ একই সঙ্গে খতিয়ে দেখছে কীভাবে এই গণপিটুনির ঘটনা ঘটল এবং কারা এর নেপথ্যে ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, এনকাউন্টারে নিহত প্রভাস মণ্ডলই নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মূল অভিযুক্ত এবং তার অপরাধের জেরেই গোটা এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল।
এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সূর্যপুরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির দাবি জানান। মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থল থেকেই সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে ভাড়া বাড়িতে অস্থায়ীভাবে ফাঁড়ি চালু করার কথাও বলেন। তাঁর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেলা পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির কাজ সম্পন্ন করে।


