কলকাতা: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (TMC Bank Account Freeze) মামলায় কালীঘাট তৃণমূলকে (Kalighat TMC) সাময়িক স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে আদালতের তীব্র ভর্ৎসনা শোনে ঋতব্রত শিবির। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচনে লড়ার সময় ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই অর্থ ব্যবহার হয়েছে, তখন তো কোনও সমস্যা হয়নি। তাহলে ফল প্রকাশের পর এখন কেন অভিযোগ?
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই স্পেশাল অফিসারের তত্ত্বাবধানেই ফ্রিজ হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Bank Account Freeze) থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যবহার করতে পারবে কালীঘাট তৃণমূল।
আদালত জানিয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেশাল অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন বিচারপতি (অব.) সুব্রত তালুকদার। এই সময়ের মধ্যে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পূর্বনির্ধারিত দুই অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীই লেনদেন করতে পারবেন। তবে প্রতিটি চেক বা লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পেশাল অফিসারের কাউন্টার সই বাধ্যতামূলক থাকবে।
এখানেই শেষ নয়, আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিদিন কী পরিমাণ অর্থ খরচ করা হচ্ছে এবং কোন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে, তার বিস্তারিত হিসাব নিয়মিত আদালতে জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি মিললেও পুরো প্রক্রিয়াটি আদালতের কড়া নজরদারির আওতায় থাকবে।
উল্লেখ্য, বুধবার প্রায় তিনটির বেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (TMC Bank Account Freeze) হয়ে যাওয়ায় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাজকর্মে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল (Kalighat TMC)। ওই শুনানিতে অন্তত একটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার এই মামলায় আদালত আপাতত সীমিত পরিসরে লেনদেনের অনুমতি দিলেও, আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে স্পেশাল অফিসার নিয়োগ এবং দৈনিক ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার মতো একাধিক শর্ত আরোপ করেছে। এই নির্দেশের ফলে কালীঘাট তৃণমূলের (Kalighat TMC) দৈনন্দিন সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক খরচ মেটানোর পথ আপাতত খুললেও, প্রতিটি আর্থিক লেনদেন আদালতের সরাসরি নজরদারির আওতায় থাকবে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালত ফের বিবেচনা করবে।


