কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়নের মধ্যেই ফের শিরোনামে উঠে এল উত্তর ২৪ পরগনার বহুল আলোচিত কামদুনি গণধর্ষণ-হত্যা (Kamduni rape and murder) ও বরুন বিশ্বাসের (Barun Biswas) কথা। এই মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু করার দাবি তুলেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের আমলে তদন্তে একাধিক ত্রুটি ছিল। ফলে প্রকৃত সত্য সামনে আসেনি এবং নির্যাতিতার পরিবার পূর্ণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাব, কামদুনি মামলার ফাইলটি পুনরায় খোলা হোক। আগের সরকার যেভাবে তদন্ত পরিচালনা করেছিল, তাতে সত্য সামনে আসেনি। তাই নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।”
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৭ জুন উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনি গ্রামে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ২১ বছরের এক কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর একটি মাঠ থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় (Kamduni rape and murder) । ঘটনায় গোটা রাজ্য জুড়ে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। পরে তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও তদন্তের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টও মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার উপর নজরদারি করে।
কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন শিক্ষক ও সমাজকর্মী বরুণ বিশ্বাস (Barun Biswas)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন এবং কামদুনির নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান। ২০১২ সালের ৫ জুলাই গোপালপুর স্টেশনের কাছে আততায়ীদের গুলিতে খুন হন বরুণ বিশ্বাস।
তাঁর হত্যাকাণ্ডও রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। পরে ওই মামলায় একাধিক অভিযুক্ত গ্রেফতার ও দোষী সাব্যস্ত হলেও, বরুণ বিশ্বাসের মৃত্যু আজও বাংলায় অপরাধ ও প্রতিবাদের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের (Jyotipriya Mallik) নামও বারবার উঠে এসেছে। বরুন বিশ্বাসের পরিবারের অভিযোগ, তাঁর মদতেই ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল হামলা চালিয়ে বরুণকে খুন করেছিল।
বারুইপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে সামনে রেখে কামদুনি মামলার পুনর্তদন্তের দাবি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, পুরনো মামলার সমস্ত তথ্যপ্রমাণ পুনরায় খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। এখন দেখার, কামদুনি মামলার ফাইল পুনরায় খোলার দাবিতে প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয় কি না।


