Aaj India Desk, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: বারুইপুরের ১১ বছরের নাবালিকাকে খুনের ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। ময়নাতদন্তের (Post Mortem) প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, শিশুটির উপর যৌন নির্যাতনের ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি মাথায় গুরুতর আঘাতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, প্রথমে মাথায় জোরে আঘাত করে তাকে অচেতন করা হয়। তারপর জীবিত অবস্থাতেই একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। কারণ, তার ফুসফুস ও পাকস্থলীতে জল পাওয়া গিয়েছে, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে জলে পড়ার সময় সে এখনও বেঁচে ছিল।
ময়নাতদন্তে আরও জানা গিয়েছে, নাবালিকার শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যৌনাঙ্গেও গুরুতর ক্ষতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, প্রাথমিক রিপোর্টে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাথায় আঘাতের কারণে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এরপর জলে ডুবে তার মৃত্যু হয়। এই তথ্য সামনে আসার পর পুলিশ মামলায় আরও কড়া ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
তদন্তের স্বার্থে খুনের পাশাপাশি ধর্ষণ, গণধর্ষণ, প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং পকসো আইনের একাধিক ধারা যোগ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ফরেনসিক রিপোর্ট, ময়নাতদন্তের তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়ে গোটা ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার বিকেলে বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ওই নাবালিকা। অনেকক্ষণ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চার জনের সঙ্গে সে ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। পরদিন সকালে ধবধবি ও সূর্যপুর স্টেশনের মাঝামাঝি একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দেহ রাস্তায় রেখে বিক্ষোভ দেখান। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজনের মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বড় পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরও তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, ফরেনসিক নমুনা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান মিলিয়ে ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।
এদিকে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, এই ঘটনায় সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। নির্যাতিতার পরিবারের চাওয়া অনুযায়ী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মঙ্গলবার তিনি বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। পাশাপাশি ভবানীভবনে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে। এছাড়াও, নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। কোনও পুলিশকর্মীর দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ মিললে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


