Aaj lndia Desk,কলকাতা: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড়। সোমবার সবুজ রঙের মোমবাতি হাতে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( Mamata Banerjee)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা-নেত্রী, যার মধ্যে অপরূপা পোদ্দার, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল-সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
‘তোমার সুর, আমার সুর— জাস্টিস ফর বারুইপুর’ স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার কালীঘাটে নিজের বাসভবনের সামনে থেকে মোমবাতি মিছিলের নেতৃত্ব দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই এক্স (X) হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)- কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে। এদিকে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে গলির মুখে পৌঁছতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যারিকেড করে মিছিলের পথ আটকানোর চেষ্টা করে। তবে সেই বাধা পেরিয়েই মিছিল নিয়ে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মূল রাস্তায় পৌঁছে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে পা মেলান তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কে নিশানা করে এক্স (X) হ্যান্ডেলে দল লিখেছে, “মিস্টার শুভেন্দু অধিকারী, আপনি একজন চরম ভণ্ড!” তৃণমূলের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেমন দীর্ঘদিনের অশান্তির পরেও মণিপুরে যাননি, তেমনই বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সময়ও নাকি মুখ্যমন্ত্রীর হয়নি। তাদের অভিযোগ, প্রথমে নির্যাতিতার বাবা-মাকে ভবানী ভবনে এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়েছিল, পরে আবার জানানো হয় তিনি পরের দিন পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। তৃণমূলের কটাক্ষ, রাজনৈতিক কর্মসূচিই নাকি সরকারের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই আবহেই রবিবার রাতে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে বিপুল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, বারুইপুরে যাওয়া আটকাতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কার্যত নজরবন্দি করে রাখা হয়েছিল। সেই ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে দলের আইটি সেল।
ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বারুইপুরের ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। তাঁর দাবি, ভগবানপুর, পটাশপুর, কোচবিহার, দুর্গাপুর, বেহালা, দিনহাটা, পানিহাটিসহ একাধিক জায়গায় নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বারুইপুরের ঘটনার পর মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নজরবন্দি থাকার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, তিনি একাই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বাড়ির সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, সিআরপিএফ ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন ছিল। তাঁর দাবি, আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বলা হলেও এটি কার্যত ‘হাউস অ্যারেস্ট’-এরই সামিল।
তবে সোমবার সকালে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। কালীঘাটের বাড়ির সামনে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য নির্ধারিত বাহিনীই শুধু মোতায়েন থাকে। এর আগে রবিবারই ফোনে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এরপর সোমবার বিকেলে মোমবাতি মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামেন তিনি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যারিকেড অতিক্রম করে তাঁর এই প্রতিবাদ কর্মসূচি বারুইপুরকাণ্ডে সুবিচারের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে। একাংশের মতে, নারী নিরাপত্তার ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে চাপে ফেলতে এই ঘটনাকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে তৃণমূল।


