Aaj India Desk, কলকাতা: বাংলা রাজনীতিতে ভোটের সময় যতই উত্তেজনা থাকুক, ফল ঘোষণার পরে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসানের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (Buddhadeb Bhattacharjee) ও সিপিএমের শীর্ষ নেতা বিমান বসু (Biman Bose) উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর বিজেপিকে অভিনন্দন জানাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও তাঁর পক্ষ থেকে কোনও শুভেচ্ছাবার্তা আসেনি।
তবে শনিবার সেই অবস্থানের বদল দেখা গেল। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, ফেসবুক লাইভে শুভেন্দুকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
লাইভে মমতা বলেন, “আপনি আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তার জন্য আমার শুভেচ্ছা রইল। তবে এটাও ঠিক, আপনি শুরু থেকেই তৃণমূলের রাজনীতি করেননি। একসময় কংগ্রেসে ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার ভোটেও হেরেছেন। আপনার কেন্দ্রে আপনাকে জেতাতে আমি বারবার প্রচার করেছি। সেটা আমার দায়িত্ব ছিল, তাই এর জন্য আমি কোনও কৃতিত্ব নিতে চাই না।”
এরপর তিনি শুভেন্দুর তৃণমূলে থাকার সময়ের কথাও তুলে ধরেন। মমতার বক্তব্য, “আপনি প্রায় ১০-১১ বছর তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক এবং মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। কখনও পরিবহণ দফতর, কখনও সেচ দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন। আবার একাধিক জেলার সংগঠনের দায়িত্বও ছিল আপনার কাঁধে। জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত ও গ্রাম স্তরের সংগঠন গড়ে তুলতেও আপনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। সবটাই আমার জানা আছে।”
মমতার এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, গত কয়েক বছর ধরে শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে যে কড়া ভাষায় আক্রমণ করতেন মমতা, শনিবারের বক্তব্যে সেই সুর অনেকটাই নরম ছিল। বরং প্রথমবার তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন যে তৃণমূলকে সংগঠিত করতে শুভেন্দুর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল এবং সেই কারণেই দল তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিল।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে মমতা হয়তো পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। তাঁর ইঙ্গিত হতে পারে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তৃণমূলের প্রতি অতিরিক্ত কড়া মনোভাব না নেওয়ার আবেদনই তিনি করেছেন।
এদিকে শনিবার সকালেই তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সূত্রের দাবি, মমতার উপর অভিমান থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও পরে তাঁকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে দেখা যায়, যা নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলার রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য কোথায় রয়েছে, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভালোভাবেই উপলব্ধি করছেন। তাই তাঁর শনিবারের বক্তব্য শুধু শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করেই নয়, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক শক্তিকেন্দ্রের প্রতিও একটি বার্তা হতে পারে। এখন দেখার, সেই বার্তার কোনও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসে কি না।


