Aaj India Desk, কলকাতা: মেট্রোপলিটনের অস্থায়ী তৃণমূল কার্যালয় (TMC Office) ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। ভবনটির ব্যবহার ও দখল নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) বড় জয়ের পর তপসিয়ায় থাকা তৃণমূলের মূল দলীয় কার্যালয় সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সময় দলের সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি অস্থায়ী অফিসের প্রয়োজন হয়। উপযুক্ত জায়গার খোঁজে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন পুরমন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim), অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)-সহ চারজন নেতাকে।
বেশ কয়েক মাস খোঁজাখুঁজির পর ২০২১ সালের শেষ দিকে ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটন এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন পছন্দ করা হয়। ভবনটির মালিক ছিলেন ‘মডার্ন ডেকোরেটার্স’-এর মন্টু সাহা। অনুষ্ঠানবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত সেই ভবনের নিচের তলা এবং তার উপরের আরও দুটি তলা ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
২০২২ সালের এপ্রিল-মে মাসে ভাড়ার চুক্তি সই হয়। সেই চুক্তিতে মাসিক ১ লক্ষ টাকা ভাড়ায় (টিডিএস কেটে চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হতো) ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য ভবনটি তৃণমূলের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়। চুক্তিতে ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষরও ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
পরে ২০২৫ সালের জুনে চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত করা হয়। তবে নতুন চুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যোগ করা হয়েছিল। সেখানে উল্লেখ ছিল, ভবনের মালিক চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভবন খালি করার আবেদন জানাতে পারবেন।
দাবি করা হচ্ছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলের পর তৃণমূল নেতৃত্ব ওই শর্তকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।
সূত্রের দাবি, ভবনের মালিক মন্টু সাহা পরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে ভবনটি খালি করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কালীঘাট ঘনিষ্ঠ নেতৃত্বের তরফে তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে ভবনটি খালি করে দেওয়া হবে।
তবে, এর মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, ঋতব্রত ঘনিষ্ঠ একটি অংশ আবার ওই তিনটি তলায় নিজেদের দখল প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে ভবনটি খালি করা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছে ভবনের মালিকপক্ষ। সব মিলিয়ে তৃণমূলের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় নিয়ে অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।


