কলকাতা: মঙ্গলবার স্বামী সাকিব আলিকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়ির সামনে চলে যেতে চান অপরূপা (Aparupa Poddar)। পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতি বচসাতেও জড়িয়ে পড়েন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ। এরপর দু-দিন হাজিরা এড়ান অপরূপা পোদ্দার। অবশেষে শুক্রবার শ্রীরামপুর থানায় আইনজীবীর পোশাকে দেখা যায় তাঁকে। বেলা ১১.৫২ মিনিট নাগাদ থানায় হাজিরা দিতে ঢোকেন।
এরপর চারঘন্টা ম্যারাথন জেরা শেষে বেরোতেই আচমকা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অপরূপা (Aparupa Poddar)। ঘটনায় থানা চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েক পা এগোতেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে থাকা আইনজীবী ও অনুগামীরা দ্রুত তাঁকে সামলে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানা চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, রামনবমী হিংসার মামলায় গ্রেফতার হওয়া তাঁর স্বামী তথা কাউন্সিলর সাকির আলিকে নিয়ে বিক্ষোভ এবং পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় অপরূপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে বুধবার হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেদিন তিনি থানায় যাননি। তাঁর (Aparupa Poddar) দাবি ছিল, ওই দিন স্বামীকে এনআইএ আদালতে পেশ করা হচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতে থানায় হাজির হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি।
এরপর চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট তাঁর বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারায় নতুন মামলা রুজু করে ফের নোটিশ পাঠায়। সেই নোটিশ মেনেই শুক্রবার আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীরামপুর থানায় হাজির হন অপরূপা পোদ্দার (Aparupa Poddar)। বেলা ১১টা ৫২ মিনিট নাগাদ তিনি থানায় প্রবেশ করেন এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের মুখোমুখি হন।
প্রায় চার ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। তদন্তকারীরা মূলত পুলিশি কাজে বাধা, বিক্ষোভের সময় তাঁর ভূমিকা এবং ঘটনাক্রম নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করেন বলে সূত্রের খবর। তবে জেরায় তিনি কী উত্তর দিয়েছেন, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।


