স্নেহা পাল, ভোপাল: সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের (Mid-day Meal) মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফের প্রশ্ন। ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে মধ্যপ্রদেশের (Madhyapradesh) মাইহার (Maihar) জেলার একটি সরকারি স্কুলে শিশুদের মাটিতে বসিয়ে থালার বদলে খাবার পরিবেশন করা হয় ছেঁড়া কাগজ ও নোটবইয়ের পাতায়।
ছেঁড়া পাতায় খেতে বাধ্য
ভাটিগাঁও গ্রামের (Bhatgawan Village) ওই স্কুলে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ছাত্রছাত্রীদের হালুয়া ও পুরি পরিবেশন করা হয় পুরোনো ছেঁড়া কাগজের পাতায়। সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুরা জুটের চাটাইয়ের উপর বসে মাটিতে রাখা কাগজে খাবার খাচ্ছে।
সরকারি উদাসীনতার অভিযোগ
এই ঘটনার পর বিরোধী কংগ্রেস শাসক বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে। মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটোয়ারি (Jitu Patwari) মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের (Mohan Yadav) একটি খাবার খাওয়ার ভিডিওর সঙ্গে ওই স্কুলের ভিডিও পোস্ট করে সরকারকে শিশুদের প্রতি সংবেদনশীলতার অভাবে অভিযুক্ত করেন।
মাইহার জেলার কালেক্টর রানি বাটাদ (Rani Batad) জানান, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার ত্রিপাঠীর (Sunil Kumar Tripathi) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কালেক্টরের দাবি, স্কুলে পর্যাপ্ত সংখ্যক থালা ছিল। দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ব্লক রিসোর্স সেন্টারের (Block Resource Centre) ইনচার্জেরও এক মাসের বেতন কাটা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পঞ্চায়েতের মিড-ডে মিল দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং খাবার প্রস্তুতকারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এসডিএম-কে পৃথক তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মিড-ডে মিল ঘিরে বারবার বিতর্ক
উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসে মধ্যপ্রদেশের (Madhyapradesh) শিওপুর জেলার (Sheopur District) একটি প্রাথমিক স্কুলে একইভাবে শিশুদের ছেঁড়া কাগজে খাবার পরিবেশনের ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে সাসপেন্ড এবং সংশ্লিষ্ট স্বনির্ভর গোষ্ঠীর চুক্তি বাতিল করা হয়। ডিসেম্বর মাসে কাটনি জেলায় (Katni District) অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বাইরে শিশুদের সঙ্গে একই প্লেটে ছাগল খাবার খাচ্ছে এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল।
চিকিৎসক ও শিশু অধিকার কর্মীদের মতে, এটি শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক। মিড-ডে মিল প্রকল্পে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা গুরুতর উদ্বেগের কারণ বলে মত তাঁদের।
তবে প্রশাসনের আশ্বাস, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


