কলকাতা: একুশের ভোটে বিজেপির হারের পর রাজনৈতিক সন্ত্রাসে ৫৭ জন বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে সম্প্রতি বিধানসভায় দাবী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেইসঙ্গে একলক্ষ বিজেপি কর্মীকে ঘরছাড়া করেছে তৃণমূল বলে দাবী করেছিলেন তিনি। ২০২১-বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্তদের ইতিমধ্যেই ধরপাকড়। তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই আবহে শনিবার হাওড়ার বাগনানে প্রশান্ত দে-র বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। গত ১৫ জুন রাতে প্রশান্ত দে-সহ কয়েকজন বিজেপি কর্মী পাইকপাড়ায় তৃণমূল নেতা তথা আন্টিলা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মফিজুল ইসলাম খানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে যান। বিজেপির অভিযোগ, সেই সময় মফিজুল ইসলাম খান এবং তাঁর অনুগামীরা তাঁদের উপর হামলা চালান। ওই হামলায় প্রাণ হারান প্রশান্ত দে। আহত হন আরও তিনজন বিজেপি কর্মী।
ঘটনার দিনই আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আরও দু’জনকে, যার মধ্যে একজন মহিলা রয়েছেন, গ্রেফতার করে তদন্তকারীরা। বর্তমানে এই মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে এবং তাঁদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে প্রশান্তর পরিবার মুকভ্যমন্ত্রির কাছে খুনিদের ফাঁসির দাবী তোলে।
শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তাদের আশ্বাস দেন এই হত্যার তদন্তে সিট বা বিশেষ তদন্তকারী দল তৈরি করে কাজ শুরু হয়েছে। খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি নিশ্চিত করতে যা করার, সরকার তাই করবে। প্রশান্ত দে-র মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ায় রাজ্য সরকার। প্রথম দফায় পরিবারের হাতে ৪ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আরও ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন।
পাশাপাশি, নিহতের বড় মেয়েকে বাগনান-২ বিডিও অফিসে চুক্তিভিত্তিক চাকরি এবং ছোট মেয়ের পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। সরকার জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সবরকম আইনি পদক্ষেপ করা হবে।


