কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার (Taratala Tragedy) পর কেটে গিয়েছে প্রায় ৩০ ঘন্টা। এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত ১৯ জন এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধ্বংসস্তূপের নীচে ঠিক কতজন শ্রমিক এখনও আটকে রয়েছেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, এত বড় নির্মাণ প্রকল্পে কাজ চললেও শ্রমিকদের কোনও উপস্থিতি রেজিস্টার বা নথি রাখা হয়নি বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে অ্যাডিশনাল সিপি (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল বলেন, উদ্ধারকাজের পাশাপাশি শ্রমিকদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ঘটনাস্থলে কাজ করা শ্রমিকদের কোনও সরকারি রেকর্ড বা উপস্থিতির খাতা না থাকায় তদন্তকারীদের বিভিন্ন সূত্র ধরে তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
কুণাল আগরওয়াল আরও জানান, ভেঙে পড়া নির্মীয়মাণ গুদাম ও কোল্ডস্টোরেজের জমিটি বন্দরের কাছ থেকে লিজ নিয়েছিলেন শম্ভুনাথ বহেরা। একসময় ‘বহেরা ব্রাদার্স’ নামে তিন ভাইয়ের যৌথ সংস্থা থাকলেও পরে একক মালিকানা চলে আসে শম্ভুনাথের হাতে। তাঁর উদ্যোগেই সেখানে বিশাল গুদাম ও কোল্ডস্টোরেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিল অয়ন ট্রেডার্স নামে একটি সংস্থা। মাঠপর্যায়ে কাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন আসগার হোসেন। তদন্তকারীদের দাবি, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় (Taratala Tragedy) প্রাণ হারিয়েছেন আসগারও। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন, খুনের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, মৃত আসগার হোসেনের বিরুদ্ধে ইকবালপুর ও দক্ষিণ বন্দর থানায় পুরনো দুটি মামলা রয়েছে। একইভাবে ধৃত সৈয়দ মহম্মদ গুলজারের বিরুদ্ধেও একাধিক পুরনো অভিযোগের তথ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবারই দাবি করেছিলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কলকাতা পুরসভার অনুমোদন পাওয়ার পরই গুদামটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। সেই মন্তব্যের পরই তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, গুদামটির অনুমোদন, নকশা, নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি চেয়ে কলকাতা পুরসভার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, প্রয়োজন হলে পুরসভার সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং আধিকারিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, বলেন শুভেন্দু। তদন্তকারীদের মতে, এই বিপর্যয়ের (Taratala Tragedy) নেপথ্যে শুধুই নির্মাণগত ত্রুটি, নাকি অনুমোদন ও নজরদারিতেও গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। তারাতলা ট্র্যাজেডির (Taratala Tragedy) দায় কার উপর বর্তাবে, সেই উত্তর খুঁজতেই জোরকদমে এগোচ্ছে তদন্ত।


