Aaj India Desk, কলকাতা : ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া শ্রমিকদের আর্তনাদ তখনও থামেনি। তার মধ্যেই সামনে এল এমন এক দাবি, যা তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়কে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল। দুর্ঘটনার প্রায় দু’সপ্তাহ আগে সংশ্লিষ্ট নির্মাণে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে বাম শিবিরের পক্ষ থেকে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই সতর্কবার্তা পৌঁছালেও এবং সম্ভাব্য বিপদের ইঙ্গিত পাওয়ার পরও কেন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হল না? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। (Taratala Incident)
‘দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল আগেই’
বুধবারের দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মহম্মদ সেলিম। তাঁর দাবি, গত ১১ জুন সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন বন্দর কর্মী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। দলীয় সূত্রে প্রকাশিত দুই পাতার ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নজিরাবাদের একটি গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনার পাশাপাশি তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউনে শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। চিঠিতে দাবি করা হয়, এই নির্মাণকাজে যুক্ত কুখ্যাত আসগর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধি মানছেন না। সেলিমের অভিযোগ, সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও সেই সময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। (Taratala Incident)
দায় কার?
ঘটনার পর দায় নিয়ে নতুন বিতর্কও শুরু হয়েছে। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্মাণের জন্য জমির মালিকানা ও লিজ সংক্রান্ত বিষয় তাদের আওতায় থাকলেও নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। বন্দরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জমি ব্যবহারের অনুমতি বন্দর কর্তৃপক্ষ দিলেও নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের দায়িত্ব ছিল পুরসভার। ফলে প্রশ্ন উঠছে, অনুমোদিত নকশা এবং নির্মাণ প্রক্রিয়ায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না।(Taratala Incident)
নকশা খতিয়ে দেখার নির্দেশ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে নির্মাণ নকশায় ত্রুটি থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। সেই কারণেই বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নকশাগত ভুলকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তৃণমূল আমলে অনুমোদিত ওই নির্মাণ পরিকল্পনা এখন বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হবে। সংশ্লিষ্ট নথি ও অনুমোদন প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হবে।
তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ে মৃত ও আহতদের ঘটনায় দায় নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্নে এখন বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। সরকারি তদন্ত, নকশা পরীক্ষা এবং পূর্ব সতর্কবার্তার দাবির মধ্যে এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ সামনে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার।


