Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বাজেট বিতর্কে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে, বিশেষত দলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বীরভূমের পাথর খাদান থেকে রাজস্ব ফাঁকি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তা এবং I-PAC-এ অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ তুলে তিনি জানান, এই সমস্ত বিষয়ে তদন্ত করা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাথর খাদান নিয়ে বড় অভিযোগ
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) দাবি করেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে অতীতে বছরে মাত্র ৭ কোটি টাকা রাজস্ব রাজ্য সরকারের কোষাগারে জমা পড়ত। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেড় মাসের মধ্যে সেই আয় বেড়ে ৮৩ কোটিতে পৌঁছেছে বলে তাঁর দাবি।
এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এই সংখ্যা থেকে স্পষ্ট যে প্রতি বছর প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। সেই অর্থের একটি অংশ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাইতে পাচার হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন দপ্তরে আর্থিক অনিয়মের আরও তথ্য সরকারের হাতে রয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা সামনে আনা হবে।
I-PAC-এ অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ
শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আরও দাবি করেন, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের এক ঠিকাদারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি I-PAC-এর অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। এই আর্থিক লেনদেনেরও তদন্ত হবে বলে তিনি জানান।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ‘ভুয়ো উপভোক্তা’র দাবি
মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দাবি করেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তার সন্ধান পাওয়া গেছে। তাঁর অভিযোগ, এই ভুয়ো নামের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫৪০০ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের উচ্চস্তর এই বিষয়ে অবগত ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তবে সরকারি নিরীক্ষা বা যাচাই রিপোর্ট এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
দুর্নীতির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আর্থিক অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সরকারি অর্থ উদ্ধার করার উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে।


