Aaj India Desk, কলকাতা : যে দল একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে জন্ম নিয়েছিল, সেই দল থেকেই সোমবার কার্যত সরিয়ে দেওয়া হল তাঁকে। নিউটাউনের একটি হোটেলে মাত্র কয়েক মিনিটের বৈঠকে বদলে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। আর সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে দেখানো হল দলের সংবিধান ও সাংগঠনিক সংকটের যুক্তি।
সোমবার বিকেলে নিউটাউনের নোভোটেল হোটেলে অনুষ্ঠিত সভায় দলের নতুন ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়। বৈঠকের শুরুতে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংবিধানিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, দলের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক। তিনি জানান, শেষবার ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এই কমিটি গঠিত হয়েছিল। এরপর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি তৈরি হয়নি। সেই কারণেই জরুরি ভিত্তিতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই বৈঠকেই দলনেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। তবে তাঁকে আর আলাদা করে সাসপেন্ড করার প্রয়োজন হয়নি। নতুন কমিটি গঠন করেই চেয়ারপার্সন পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়া হয়।
কে বসলেন নতুন শীর্ষ পদে?
দলের নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বদলে দেওয়া হয়েছে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়ের হাতে। বৈঠকে ধ্বনি ভোটে তাঁকে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপারসন নির্বাচিত করা হয়। দীর্ঘদিনের সংগঠক হিসেবে পরিচিত অরূপের কাঁধেই এখন দলের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি এবং পরবর্তী সাংগঠনিক পুনর্গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে।
দ্রুত গঠিত হল নতুন কমিটি
বৈঠকে প্রথমে দশ জন সদস্যের নাম প্রস্তাব করা হয়। পরে তাঁদের মাধ্যমে আরও সদস্য নির্বাচন করে ৩০ সদস্যের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটিও গঠন করা হয়।প্রাথমিক তালিকায় ছিলেন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, বিপ্লব মিত্র, আখরুজ্জামান আনসারি, সাবিনা ইয়াসমিন, সন্দীপন সাহা, রথিন ঘোষ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক নেতা।
দলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথিন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সাধারণ সম্পাদক করা হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহাকে।এছাড়া রাজ্য কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আখরুজ্জামান আনসারির নাম ঘোষণা করা হয়।
এদিনের বৈঠকে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের একটি অংশও উপস্থিত ছিলেন। অসীম বসু, জুঁই বিশ্বাস এবং তারক সিংহ-সহ একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলর বৈঠকে যোগ দেন। দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকের পরবর্তী পদক্ষেপের উপরই নজর রাজনৈতিক মহলের।


