Aaj India Desk, কলকাতা : সোমবার রাজ্য বাজেট পেশ হওয়ার পরই নবগঠিত সরকারের আর্থিক পরিকল্পনা ও বিভিন্ন ঘোষণাকে ঘিরে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন তৃণমূলের দুই বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এবং মদন মিত্র। তাঁদের বক্তব্য, বাজেটে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ছবি দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অনুপস্থিতি, ডিএ প্রসঙ্গ এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়ে সরকারের অবস্থানকে নিশানা করেন তাঁরা।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উল্লেখ নিয়ে কটাক্ষ
সোমবার বাজেট পেশের পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, বাজেটে কেন্দ্র সরকারের উল্লেখ এত বেশি যে কখনও কখনও মনে হয়েছে এটি রাজ্যের বাজেট নাকি কেন্দ্রনির্ভর কোনও আর্থিক নথি। তাঁর মতে, আগের সরকার রাজ্যের উন্নয়নের জন্য একাধিক পরিকল্পনা ও প্রস্তাব রেখে গিয়েছিল, নতুন সরকার চাইলে সেগুলির বাস্তবায়ন করতে পারতো।
কুণাল আরও দাবি করেন, আগের সরকারকে কেন্দ্রীয় অর্থ সহায়তা না পাওয়ার পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজস্বের উপর নির্ভর করেই কাজ চালাতে হয়েছিল। সেই কারণে তৎকালীন সরকারকে ‘আত্মনির্ভর বাজেট’ করতে হয়েছিল কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকারের বাজেট ‘কেন্দ্র নির্ভর’ বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসাথী ও অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে আপত্তি
বাজেটে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উল্লেখ না থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, স্বাস্থ্যসাথীর পরিবর্তে আয়ুষ্মান ভারতের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, কিন্তু যাঁরা ওই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে সহায়তার কথা বলা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রাপ্তি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে ‘যোগ্য’ শব্দের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর মতে, কারা এই সুবিধা পাবেন, তা আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। মুড়িগঙ্গা নদীর উপর সেতু নির্মাণের ঘোষণাকে ঘিরেও সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, প্রকল্পটির ঘোষণা আগের সরকারই করেছিল। ফলে বর্তমান সরকার কেন সেটিকে নতুন করে বিবেচনার কথা বলছে, তা স্পষ্ট নয়।
ডিএ নিয়ে কেন্দ্রকে দায়ী
সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর দাবি, আগের সরকারের ইচ্ছা ছিল আরও বেশি ডিএ দেওয়ার। কিন্তু কেন্দ্রীয় বকেয়া অর্থ না মেলায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। পাশাপাশি সংখ্যালঘু উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ কমানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা দল খতিয়ে দেখবে এবং পরে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া ভাতা নিয়েও বিজেপি সরকারকে খোঁচা দেন তিনি। তিনি বলেন, “মমতা সরকারের সময় বিজেপি বারবার ‘ভাতা নির্ভর সরকার’ বলে কটাক্ষ করতো। এখন দেখছি, সেই ধরনের অনেক কিছুই এরাও বাজেটে রেখেছেন।”
বাজেট পেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিরোধী শিবিরের এই সমালোচনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আগামী দিনে রাজ্যের আর্থিক নীতি, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প এবং সরকারি কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।


