Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’ এবং দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) শিবির ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনে দেওয়ানি আদালত (Civil Court) এবং নির্বাচন কমিশনের (ECI) দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বিধানসভায় ‘নব তৃণমূল ব্লক’ গঠনের পর থেকেই দলীয় প্রতীক ও কয়েকশো কোটি টাকার তহবিলের ওপর অধিকার নিয়ে দুই শিবিরের সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তারাই এখন ‘আসল তৃণমূল’, ফলে দলীয় সম্পদ ও প্রতীকের ওপর তাদেরই অধিকার থাকা উচিত।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করেছে ঋতব্রত শিবির। দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানানোর পর ঋতব্রত ঘনিষ্ঠ ১০ জন বিধায়ক বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ, দলের তিনটি প্রধান ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেআইনি বা সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে। সূত্রের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থন দেখিয়ে Election Symbols (Reservation & Allotment) Order, 1968 অনুযায়ী কমিশনের কাছে প্রতীকের অধিকার দাবি করতে পারে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। যদিও ঋতব্রত জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে প্রতীক নিয়ে সরাসরি দাবি তোলা হচ্ছে না। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরিষদীয় দলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এরই মধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মমতা শিবিরের স্থগিতাদেশের আবেদনও খারিজ হয়েছে। এই রায়কে নিজেদের বড় আইনি ও নৈতিক জয় বলে দাবি করছে ঋতব্রত শিবির।বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, বিধানসভায় তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনই তাঁদের পাশে রয়েছেন। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতাকেই ভিত্তি করে আগামী দিনে দলীয় নাম, প্রতীক এবং সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ও দেওয়ানি আদালত-দুই ক্ষেত্রেই আইনি লড়াই চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
তবে রাজনৈতিক মহলে এখন আরেকটি বিষয় নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের দাবি করা বিধায়কদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন মুসলিম বিধায়ক রয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই কারণে তাঁদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে বাকি বিধায়কদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। পরিস্থিতি বদলালে তাঁদের একাংশ বিজেপির দিকে যেতে পারেন বলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। যদিও এই নিয়ে এখনও কোনও শিবিরের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।


