Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : বিধানসভা নির্বাচনের পরাজয়ের পর থেকেই শনির দশা শুরু হয়েছে তৃনমূল কংগ্রেসের। বিধানসভায় ভাঙনের পর লোকসভাতে ২০ জন সাংসদের আলাদা হয়ে NCPI দলে যোগদান দলকে আরও দুর্বল করেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল ছেড়ে বিজেপির সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সাংসদদের হঠাৎ ত্রিপুরার একটি রাজনৈতিক দলে যোগদান করার কারণ নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। এবার সেই কারণ স্পষ্ট করলেন তৃনমূলের বিশ্বাসযোগ্য এবং মমতা ঘনিষ্ঠ সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। দলবদলের নেপথ্যে থাকা কারণ ও সাংসদদের ঘিরে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন তিনি।
দলবদলের পেছনে আর্থিক প্রলোভন
নাম না নিয়েই বিজেপিকে নিশানা করে মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) দাবি করেন, তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া ২০ জন সাংসদদের প্রত্যেককে প্রথমে ৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাংসদ পদে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রতি মাসে তাঁদেরকে ১ কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এখনও পর্যন্ত ওই সাংসদদের মেয়াদে ৩৬ মাস বাকি রয়েছে। অর্থাৎ তাঁদের মাসিক অর্থলাভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে একজন সাংসদের জন্য মোট অঙ্ক প্রায় ৪০ কোটি টাকা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০ জন সাংসদকে নেওয়ার দর মোট ৮০০ কোটি টাকা।
কেনো উঠল এই কথা ?
পশ্চিমবঙ্গের আদলে মহারাষ্ট্রেও শুরু হয়েছে দল ভাঙনের প্রচেষ্টা। শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত দল ভাঙানোর চেষ্টাকে কটাক্ষ করে জানিয়েছিলেন, মহারাষ্ট্রের সাংসদদের দল বদলের জন্য ১৫ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গ টেনেই মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) বলেন, “মাত্র ১৫ কোটি ? এত সস্তায় কেনো যাচ্ছেন ? আমাদের সাংসদরা তো ৪ কোটি অগ্রিম পেয়ে পরের ৩৬ মাসে মোট ৩৬ কোটি পাবেন।”
তবে সত্যিই যদি বিরোধী শিবিরের সাংসদদের দলবদল করাতে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, এর লক্ষ্য কি শুধুমাত্র কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সমর্থন অর্জন, নাকি প্রতিপক্ষ দলকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশল? তবে কি পশ্চিমবঙ্গকে বিরোধী শূন্য করতে চায় বিজেপি? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রভাবশালী সাংসদদের দলত্যাগ যে কোনও দলের সাংগঠনিক কাঠামো, কর্মীদের মনোবল, জনমনে বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নেতৃত্বের কর্তৃত্বের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে মহুয়া মৈত্রের এই অভিযোগ সামনে আসায় তা কেবল অর্থের অঙ্ক নিয়েই নয়, বরং সম্ভাব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


