দুর্গাপুর: ক্ষমতার পালাবদল হতেই একে একে বের হচ্ছে তৃণমূলের ঝুলির বেড়াল। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভারই প্রায় ৮ জন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের র্যাডারে রয়েছেন প্রায় শ-দেড়েক তৃণমূল নেতা-কর্মী (TMC worker)। তাঁদেরকে দেখলেই ডিম-জুত-কাদা ছুঁড়ছে ক্ষুব্ধ জনতা। এরই মধ্যে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল দুর্গাপুরে। ডিম ছোঁড়ার পরিবর্তে তৃণমূল কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ কর্মীকে অমলেট খাওয়াল বিক্ষুব্ধ জনতা ও বিজেপি কর্মীরা।
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ওই তৃণমূল কর্মীর (TMC worker) বিরুদ্ধে জমির পাট্টা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর শিপুল সাহা ও তাঁর অনুগামীরা মহানন্দ কলোনি, বীরভানপুর-সহ একাধিক এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাট্টার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নিয়েছিলেন। শনিবার রাতে মহানন্দ কলোনির এক বাসিন্দার বাড়ি থেকে ব্যাগভর্তি পাট্টার ফর্ম উদ্ধারের দাবি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ঘটনার প্রতিবাদে পাট্টার ফর্ম ও ঝাঁটা হাতে নিয়ে রাস্তায় নামেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, পাট্টার নামে নেওয়া টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে এবং পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও।
অভিযোগের মুখে বিদায়ী কাউন্সিলর শিপুল সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় তৃণমূল নেতা (TMC worker) সুকুমার চক্রবর্তীকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তিনি এক অভিনব পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ হলেও কোনও হেনস্থা বা ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি। বরং তাঁকে চেয়ারে বসিয়ে কার্যত ‘জামাই আদর’ করে ডিমের অমলেট খাওয়ানো হয়। একইসঙ্গে পাট্টার নামে কত টাকা তোলা হয়েছে এবং সেই টাকা কোথায় গিয়েছে, তা নিয়ে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
স্থানীয় বিজেপি নেতা দীপক দাস দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া প্রতিটি টাকার হিসেব দিতে হবে এবং কেন প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও মানুষ পাট্টা পেলেন না, তারও জবাব দিতে হবে। অন্যদিকে সুকুমার চক্রবর্তীর বক্তব্য, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর একমাত্র বিদায়ী কাউন্সিলর শিপুল সাহাই দিতে পারবেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।


