Aaj India Desk, কলকাতা : বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে থেকে রাতভর চলেছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) জেরা। সই জালিয়াতি মামলায় টানা ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেন CID এর তদন্তকারী দল। তখন অব্যাহতি দিলেও ১৪ই জুন ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু তাতেও শান্তি নেই। দ্বিতীয় সমনের আগেই শুক্রবার বিকেলে ফের অভিষেকের কালীঘাটের পরিচিত ঠিকানায় পৌঁছালো রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের দল।
তদন্ত এড়ানোর অভিযোগ
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “৪ তারিখের পরে ডিজে বাজানো হবে… মমতা যতই উদার হোক, ৪ তারিখ জবাব হবে।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাগুইআটি এবং সল্টলেক সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপিকে উদ্দেশ্যে পরোক্ষ হুমকি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
ওই অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই শুক্রবার কালীঘাটের বাসভবনে নোটিস পৌঁছে দিতে যান আধিকারিকরা। তবে অভিষেক অনুপস্থিত থাকায় এবং তাঁর দপ্তরের কর্মীরা নোটিস গ্রহণ না করায় তাৎক্ষণিকভাবে নোটিস প্রদান করা যায়নি। এর পরেই তিনি তদন্ত এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
CID এর কর্মকাণ্ডে বিরক্ত অভিষেক
তদন্ত এড়ানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে বিরক্তি নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) জানান, তাঁর লুকোনোর কিছুই নেই এবং তিনি কোনও দিনই তদন্ত এড়িয়ে যাননি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য, উভয় তদন্তকারী সংস্থার ডাকে তিনি অতীতেও হাজির হয়েছেন এবং সবসময় সহযোগিতা করেছেন। বৃহস্পতিবার বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে ভবানী ভবনে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
CID আধিকারিকরা যখন তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছন, তখন তিনি পূর্বনির্ধারিত একটি বৈঠকে অংশ নিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে ছিলেন। এই বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, CID আধিকারিকরা ভবিষ্যতে যোগাযোগ করে এলে তাঁর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারবেন।
তবে এক দিনের ব্যবধানে CID-এর এই দ্বিতীয়বারের হাজিরা ঘিরে নতুন করে জল্পনা তীব্র হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ১৪ জুনের নির্ধারিত জিজ্ঞাসাবাদের আগেই তদন্তকারীদের ফের কালীঘাটে পৌঁছে যাওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে, অভিষেককে প্যাঁচে ফেলতে এবার তৎপর গোয়েন্দারা। আগামী দিনে এই মামলাগুলির নিষ্পত্তি হয় নাকি তাপস রায়ের ইচ্ছে পূরণ করে সত্যিই জেলে যেতে হয় অভিষেককে, সেটাই এখন দেখার।


