Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যের বেকারত্ব ও চাকরির বাজারের আকাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের মনে ক্ষোভ রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার বর্তমানে ৩.৬ শতাংশ। এই অবস্থায় রাজ্যের বেকারত্ব দূর করতে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে একটি মেগা প্রকল্পের রূপরেখা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। (Bengal Employment)
কর্মসংস্থানে জোর দিতে ত্রিফলা কর্মসূচি
নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই যুবসমাজের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা ছিল চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি। সেই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে তিনটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের যে সব রাজ্য বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, তারা মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক নীতির ওপর জোর দিয়েছে। বাংলাতেও সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।(Bengal Employment)
তিনি এক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন— সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের শূন্যপদ পূরণে স্বচ্ছ নিয়োগ, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, উদ্যানপালন এবং মৎস্যচাষভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো।
ত্রিফলা কর্মসূচিতে কি কি পদক্ষেপ ?
পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের শূন্যপদ পূরণের কথা বলা হয়েছে। প্রশাসন, শিক্ষা এবং অন্যান্য সরকারি ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। (Bengal Employment)
পাশাপাশি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প খাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সহজ শর্তে ব্যাঙ্ক ঋণ, সরকারি ভর্তুকি এবং উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। নতুন উদ্যোগ ও ব্যবসা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ দুই ধরনের কর্মসংস্থানই তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তৃতীয় ধাপে ভারী শিল্পের পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, উদ্যানপালন এবং মৎস্যচাষভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ হলে গ্রামীণ অঞ্চলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই তিনটি ক্ষেত্র একসঙ্গে এগোলে রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং ভিন রাজ্যে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়া বহু শ্রমিক ও যুবক নিজেদের রাজ্যে ফিরে কাজ করার সুযোগ পাবেন। আগামী দিনে এই কর্মপরিকল্পনা কতটা বাস্তব রূপ পায়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যের যুবসমাজ এবং শিল্পমহলের।


