Aaj India Desk, নয়া দিল্লি: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পরেই দলের অন্তরেই তৈরি হয় বিদ্রোহী সাংসদদের গোষ্ঠী। নিজেদের নিয়েই আলাদা তৃনমূল দল গঠন করার চেষ্টায় স্পিকারের কাছে চিঠিও জমা দেন তাঁরা। তবে শুক্রবার তাদের রাজনৈতিক পদক্ষেপকে ভেস্তে দিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। তিনি দাবি করেছেন, দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সাংসদরা দলত্যাগ সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখেন না। পাশাপাশি সেই বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে উল্লেখ করে তাঁদের তীব্র সমালোচনাও করেন তিনি।
কী বললেন মহুয়া?
মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) জানান, সংবিধানের ৯১তম সংশোধনীর মাধ্যমে ২০০৩ সালে ‘স্প্লিট’ বা দল ভাঙার বিধান তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও দলের সাংসদরা যদি অন্য দলে যেতে চান, তাহলে তাঁদের পদত্যাগ করে নতুন দলের প্রতীকে ভোটে লড়তে হবে।
কী বলছে ৯১তম সংশোধনী ?
তবে সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের বর্তমান বিধান অনুযায়ী, শুধুমাত্র ‘স্প্লিট’ বা পৃথক গোষ্ঠী গঠনের কোনও সুরক্ষা আর নেই। ২০০৩ সালের ৯১তম সংশোধনীর পর সেই বিধান বাতিল হয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনও আইনসভার দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা দলত্যাগ হিসেবে গণ্য নাও হতে পারে। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্পিকার বা চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়।
নজির হিসেবে উঠছে AAP
এই বিতর্কে আম আদমি পার্টির কয়েকজন রাজ্যসভা সদস্যের অতীত ঘটনার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সম্প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা অন্য রাজনৈতিক দলে যোগদানের দাবি করে একীভূত হওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন এবং তা গ্রহণ করা হয়েছিল।
তৃণমূলের বিদ্রোহী ১৯ সাংসদ যদি লোকসভায় তৃণমূলের আইনসভার দলের মোট সদস্যসংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ হয়ে থাকেন এবং তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য কোনও দলের অংশ হওয়ার দাবি করেন, তাহলে বিষয়টি দলত্যাগ আইনের বিশেষ বিধানের আওতায় বিবেচিত হবে। তবে তাঁদের দাবি বৈধ কি না, তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়া নথি, জোটের প্রকৃতি এবং সম্ভাব্য দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদনের ওপর।


