Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : কয়েকদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহী শিবিরকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে। একের পর এক সাংসদ ও নেতার অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সেই আবহেই এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার (Shatrughan Sinha) নাম। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে জল্পনা বাড়তেই মুখ খুললেন বর্ষীয়ান এই নেতা।
কী জানালেন সাংসদ ?
সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে পৃথক গোষ্ঠী গঠনের উদ্যোগে নাম জড়িয়েছে এমন ১৯ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের তালিকায় শত্রুঘ্ন সিনহার (Shatrughan Sinha) নামও উঠে আসে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে তিনি জানান, বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।
নিজেকে বরাবরই স্পষ্টভাষী বলে উল্লেখ করে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, সত্য কথা বলা যদি বিদ্রোহ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে তাঁকে বিদ্রোহী বলা যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক অর্থে তিনি কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অংশ নন। শত্রুঘ্ন সিনহার দাবি, “বিভিন্ন কারণে অনেকেই দল ছাড়ার মতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু আমার আদর্শ ও বিবেক আমায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকতে বলে।”
‘কঠিন সময়ে মমতা পাশে ছিলেন’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের একটি কঠিন সময়ের প্রসঙ্গ টেনে শত্রুঘ্ন সিনহা (Shatrughan Sinha) বলেন, ২০১৯ সালে পাটনা লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর খুব কম মানুষই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সমর্থন ও উৎসাহ দিয়েছিলেন।সেই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর দায়িত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকা বলে মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, যিনি কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন, তাঁকে প্রতিকূল সময়ে ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
বিদ্রোহী শিবিরের আমন্ত্রণ
তৃণমূল সাংসদ জানান, বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাব বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছেন। শত্রুঘ্ন সিনহার বক্তব্য, তিনি দু’বার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ‘জোড়া ফুল’-এ নির্বাচিত হয়েছেন। তাই দল ও দলের নেতৃত্বের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা রয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ও সংসদীয় পরিস্থিতি নিয়ে জল্পনার মধ্যেই শত্রুঘ্ন সিনহার এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অন্তত এই মুহূর্তে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই থাকার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।


