Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই বাংলার চতুর্দিকে মিলছে তৃনমূলের দুর্নীতির ছাপ। গত এক মাসেই গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ৫০০ জন তৃনমূল নেতা। সেই গ্রেপ্তারির হার ক্রমশ বাড়ছে বই কমছে না। এবার সেই তালিকায় উঠে এলো দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিভাস মুখোপাধ্যায় ওরফে মনুর নাম। গতকাল রাতেই তাঁকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর গ্রেপ্তারির খবর প্রকাশ্যে আসে। (Tmc Leader Arrested)
কী অভিযোগ?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তোলাবাজি ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই বিভাস মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূলত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ তাঁকে আটক করে। (Tmc Leader Arrested)
বিভাস মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তবে এই প্রথম তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল। (Tmc Leader Arrested)
এই ঘটনায় সোনারপুর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক দেবাশীষ ধর তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, “পুরো দলটাই দুর্নীতিগ্রস্ত। খুব কম লোকই আছে যারা এই সার্কেলের বাইরে রয়েছে। এদের মাথা নজরুল আলী মণ্ডল। তাদের সাথে এই কাউন্সিলররা ভাগ বাটোয়ারা করে টাকা লুঠ করত। বিজেপি আগেই বলেছিল যে বাংলার কোথাও দুর্নীতি রাখা যাবে না, আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি।”
একের পর এক অভিযোগ সোনারপুর পুরসভায়
রাজপুর-সোনারপুর পুরসভায় গত কয়েক বছরে একাধিক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানি ও সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০২৪ সালে দুর্নীতির অভিযোগে উপ-প্রধান মোফারজাল হোসেনকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মিউটেশন সংক্রান্ত ফাইল নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বরুণ সরকার মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। অন্যদিকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার চন্দ্রা ঘোষালের বাড়ি ও কার্যালয় থেকে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। এছাড়া সোনালী রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আয়বহির্ভূত সম্পত্তি এবং ক্লাব দখলের অভিযোগ তুলে এলাকায় পোস্টার পড়ে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভও দেখা যায়। এবার ফের সেই সোনারপুর এলাকায় নতুন অভিযোগ। তদন্ত এগোলে এই অভিযোগের প্রকৃতি এবং সম্ভাব্য যোগসূত্র সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসবে বলে জানিয়েছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।


