Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : রাজনীতির ময়দানে অনেক সমীকরণ দেখা যায়। কিন্তু একটি ঝালমুড়ির বাটিও যে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে, তা হয়তো কল্পনা করেননি অনেকেই। ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার পর থেকেই রাজনীতির আসরে যেন আলাদা স্থান করে নিয়েছে এই জলখাবারটি। তবে গতকাল NDA-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের (NDA meeting) ফাঁকেও পরিবেশিত সেই ঝালমুড়ি এবার সত্যিই রাজনীতিতে নতুন করে ‘ঝাল’ বাড়াল।
ঝালমুড়ির বাটিতে বাংলার স্বাদ
বুধবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে NDA শরিকদের বৈঠকের (NDA meeting) আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে ঝালমুড়ি তুলে দেন। বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও সেই বাঙালি জলযোগ উপভোগ করেন। সেই মুহূর্তের ছবি পরে নিজের সামাজিক মাধ্যমে পোস্টও করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লেখেন, এনডিএ বৈঠকের মাঝে ঝালমুড়ির বিরতি সকলেই উপভোগ করেছেন।
T-M-C নাকি নিছক প্রশংসা ?
তবে আসল খেলা শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পোস্টের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পোস্ট ঘিরে। তিনি ঝালমুড়ির প্রশংসা করতে গিয়ে লেখেন, “Relished Tangy, Masaledar and Crunchy Jhalmuri at the NDA meeting.”
প্রথম নজরে এটি সাধারণ প্রশংসাবাক্য বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ ওই বাক্যের তিনটি বিশেষণের প্রথম অক্ষরের দিকে নজর দেয়। ‘Tangy’, ‘Masaledar’ এবং ‘Crunchy’— এই তিনটি শব্দের প্রথম অক্ষর একসঙ্গে বসালে তৈরি হয় ‘TMC’। আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। নেটমাধ্যমে অনেকে দাবি করছেন, এটি কি শুধুই ঝালমুড়ির স্বাদ বর্ণনা, নাকি এর আড়ালে রয়েছে রাজনৈতিক ইঙ্গিত? যদিও অমিত শাহ বা বিজেপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কৌশলবিদের পোস্টে এমন কাকতালীয় মিল পাওয়া অস্বাভাবিক তো বটেই।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই অমিত শাহ তৃনমূলের বিরুদ্ধে প্রবল আক্রমণ শানিয়েছিলেন। বঙ্গে প্রথম পদ্মের জোয়ার আনতে তাঁর ভূমিকা স্বীকার করেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের পর তৃনমূলের ভরাডুবি এবং দলের ভাঙনের মধ্যে এভাবে পোস্ট করায় এতে একপ্রকার তৃণমূলকে খোঁচা দেওয়াই হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে এনডিএ বৈঠকের মূল রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি, একটি ঝালমুড়ির বাটি এবং তিনটি ইংরেজি শব্দই এখন নেটদুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি চর্চিত বিষয়। এই ঝালমুড়ির স্বাদ কতটা ঝাল ছিল, তা হয়তো জানা যাবে না। তবে তার রাজনৈতিক আফটারটেস্ট যে দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে, তা বলাই যায়।


