Aaj India Desk, কলকাতা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূল (TMC)-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) যখন দিল্লিতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই কলকাতার ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তৎপরতা শুরু করে সিআইডি (CID)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের ঠিকানাতেই থাকা তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে পৌঁছন সিআইডি অফিসাররা।
অফিসে এসে বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করার পর বাইরে বেরিয়ে আসেন তৃণমূলের আইনজীবী নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী (Subhasish Chakraborty)। এরপরই সিআইডি আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন রীতিমত তর্কাতর্কির রূপ নেয়। কি কি বলেছিলেন তারা?
শুভাশিস: আপনারা ভিতরে ঢুকবেন কীভাবে? আমি তো অনুমতি দিতে পারি না।
সিআইডি: আমরা সমস্ত আইনি নিয়ম মেনেই এসেছি। আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও নথি রয়েছে। আইনত এই তল্লাশি আটকানোর সুযোগ নেই।
শুভাশিস: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে নেই। তাঁর অনুপস্থিতিতে আমি কাউকে ঢুকতে দিতে পারব না। আমি শুভাশিস চক্রবর্তী, ৪০ বছর ধরে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত। বিষয়টা আমি ভালোই জানি।
সিআইডি: আপনিও জানেন, আমরা কোনও বেআইনি কাজ করতে আসিনি। তদন্তের স্বার্থেই তল্লাশি চালাতে এসেছি।
শুভাশিস: তা হলেও আমি অনুমতি দিতে পারব না।
সিআইডি: এই তল্লাশির জন্য আপনার অনুমতির প্রয়োজন নেই।
শুভাশিস: যাঁর জন্য আপনারা এসেছেন, তিনি এখন দিল্লিতে। দু’দিন অপেক্ষা করুন, তিনি ফিরলেই সব দেখানো হবে।
সিআইডি: তাঁকে আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় নথি জমা পড়েনি। সেই কারণেই আজ আমরা এসেছি।
শুভাশিস: আমি এখনই অফিস খুলে দিতে পারব না। ওঁরা ফিরলেই সহযোগিতা করবেন।
সিআইডি: আপনি তাহলে তদন্তে বাধা দিচ্ছেন!
শুভাশিস: এটা আমার ব্যক্তিগত অফিস নয় যে আমি সিদ্ধান্ত নেব। তবে আমি জানি, তাঁরা দিল্লিতে রয়েছেন।
সিআইডি: আমাদের কাছে সেই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছায়নি।
শুভাশিস: তাহলে আপনারা যা করার করুন, কিন্তু এর দায়-দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।
উল্লেখ্য, আপাতত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন শুভাশিস চক্রবর্তী। তিনি চেয়েছিলেন, মমতা ও অভিষেক দিল্লি থেকে ফেরার পরেই তল্লাশি হোক। যদিও শেষ পর্যন্ত সার্চ ওয়ারেন্ট দেখিয়ে অফিসের ভিতরে প্রবেশ করেন সিআইডি আধিকারিকরা।


