Aaj India Desk, কলকাতা : শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে একটি সুউচ্চ মূর্তি নির্মাণের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিয়ে তিনি জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণে একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের।
কী কী পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য ?
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজ্য সরকার একটি ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি নির্মাণ এবং একটি থিম-ভিত্তিক পার্ক তৈরি করবে। তবে মূর্তিটি রাজ্যের কোন স্থানে স্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
পাশাপাশি হুগলিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) পৈতৃক ভিটের কাছে জমি কিনে সেখানে স্মারক ও লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে। তাঁর মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে শ্যামাপ্রসাদের জীবন ও কর্ম তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এদিন পশ্চিমবঙ্গ দিবসের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তাই আগের সরকারের পয়লা বৈশাখে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত বদল করে বর্তমান সরকার ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে বলে জানান তিনি।
কত ব্যয় হতে পারে নতুন কর্মসূচিতে ?
সরকার এখনও ১২৫ ফুট উচ্চতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি প্রকল্পের সম্ভাব্য আর্থিক খরচ ঘোষণা করেনি। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, ১২৫ ফুট মূর্তি, পার্ক, স্মারক ও লাইব্রেরি-সহ গোটা প্রকল্পে কয়েকশো কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের মোট ঋণের বোঝা প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রতি বছর রাজস্বের একটি বড় অংশ সুদ ও ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়। সেখানে কয়েকশো কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন মূর্তি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। সমালোচকদের একাংশের মতে, সেই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি পরিকাঠামো বা শহর-গ্রামের মৌলিক পরিষেবা উন্নয়নে ব্যয় হলে সাধারণ মানুষের সরাসরি উপকার হতো। যদিও সরকারের সমর্থকদের দাবি, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণে স্মারক নির্মাণ সাংস্কৃতিক ও পর্যটন পরিকাঠামোর অংশ, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়াতে পারে। ফলে প্রকল্পটি শুধু আবেগের নয়, বরং জনস্বার্থ ও আর্থিক অগ্রাধিকারের প্রশ্নেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


