Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূলের (TMC) অন্দরের দ্বন্দ্ব এখন রাজ্য রাজনীতির মূল চর্চার বিষয়বস্তু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৃণমূলের বিরোধী দলনেতার দায়িত্বে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay)। কিন্তু দলের একাংশের বিদ্রোহের পর ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। পরে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসও সেই সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দেন। তবে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। শুক্রবার তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। বিদ্রোহী বিধায়কদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, “কাকে নেতা মানবেন, সেটা আপনাদের রুচির উপর নির্ভর করছে।”
পোস্টে কুণাল ঘোষ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনকে তুলনা করেন। তাঁর কথায়, “একদিকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, যিনি তৃণমূলের প্রথম বিধায়ক, দশবারের বিধায়ক এবং সারাজীবন দল ও নেত্রীর প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন। অন্যদিকে এমন একজন, যিনি সিপিএম থেকে একাধিক অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়ে অন্য দল থেকে এসে প্রথমবারের মতো বিধায়ক হয়েছেন।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গ টেনেও কুণাল প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, “আপনারা যাঁরা অভিষেকের সমালোচনা করছেন, ঋতব্রত তো একসময় তাঁরই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তখন আপনাদের আপত্তি কোথায় ছিল?” এছাড়াও তিনি বলেন, “নেতা কে হওয়া উচিত, সেটা বিচার করুন। একদিকে আদ্যন্ত মমতাপন্থী দশবারের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অন্যদিকে অন্য দুই দল থেকে বিতাড়িত এক বিধায়ক।”
এদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “দলের সেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনে করা হয়নি।” স্পিকারের এই বক্তব্যের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে-মাত্র ২০ মিনিটে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হল? আবার বহিষ্কারের পর এত কম সময়ের মধ্যেই কীভাবে ঋতব্রত বিরোধী দলনেতার পদে পৌঁছে গেলেন? এই সমস্ত প্রশ্ন ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।


