Aaj India Desk,কলকাতা: দেশজুড়ে তীব্র গরমের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। সাধারণত ১ জুন কেরালা উপকূলে বর্ষার প্রবেশের নির্ধারিত সময় হলেও, এ বছর এখনও পর্যন্ত সেই শর্ত পূরণ হবে কি না সে নিয়ে অনিশ্চিয়তা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
৩ জুনের আগেও বর্ষার প্রবেশের সম্ভাবনা খুবই কম। ২০০৫ সাল থেকে কেরালায় বর্ষার আগমনের পূর্বাভাস দিয়ে আসছে মৌসম ভবন। তবে প্রকৃতির নিয়মে বর্ষার আগমন নির্দিষ্ট দিন-ক্ষণ মেনে না হওয়ায় চার দিন পর্যন্ত হেরফেরকে স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। কিন্তু এ বছর পরপর কয়েকবার পূর্বাভাস ব্যর্থ হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, দেশে বর্ষার আনুষ্ঠানিক আগমন ঘোষণা করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মানতে হবে । কেরালার ১৪টি আবহাওয়া কেন্দ্রের অন্তত ৬০ শতাংশে টানা তিন দিন ২.৫ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টি, আরব সাগরে পর্যাপ্ত পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহ এবং উপগ্রহ চিত্রে পর্যাপ্ত মেঘের উপস্থিতি থাকতে হবে। বর্তমানে বৃষ্টি ও আর্দ্রতার পরিস্থিতি অনুকূল থাকলেও পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহ এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী হয়নি।
আবহবিদদের মতে, গত সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবর্ত মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। ঘূর্ণিঝড় বা ঘূর্ণাবর্তের মতো আবহাওয়া ব্যবস্থা অনেক সময় মৌসুমি বায়ুর জন্য প্রয়োজনীয় সুসংগঠিত বায়ুপ্রবাহকে দুর্বল করে দেয়, ফলে বর্ষার অগ্রগতি ধীর হয়ে যায়।
তবে আশা ছাড়ছে না আবহাওয়া দফতর। তাদের অনুমান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহ শক্তিশালী হতে পারে। যদিও বর্ষা কবে কেরালায় প্রবেশ করবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। ৮ জুনের মধ্যেও বর্ষা কেরালায় না পৌঁছলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলম্বিত বর্ষা হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
এদিকে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চলতে থাকা তীব্র তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য সুপার এল নিনিও-র প্রভাব নিয়েও সতর্ক করছেন আবহবিদরা। ফলে গরম থেকে স্বস্তি পেতে বর্ষার অপেক্ষায় এখন গোটা দেশ।


