Aaj India desk, কলকাতা: পরিবর্তনের বাংলায় ফুটেছে পদ্মফুল। বিজেপির (bjp) হিন্দুত্ববাদ দেখে অনেক বাঙালি হিন্দু ‘ভরসা’ পেয়েছিলেন। ভেবেছিলেন এবার বুঝি গুজরাটের মত সোনার বাংলা গড়ে উঠবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসতে না আসতেই তাদের চ্যালাচামুন্ডারা হিন্দুদেরই হেনস্থা করছে বলে অভিযোগ। কদিন আগেই এক বৃদ্ধকে শাসানোর ভিডিও ভাইরাল করেছিল তারা নিজেরাই। তাঁর মেয়ে মুসলিম ছেলে কেন বিয়ে করেছে তাই তাদের হিন্দু পাড়ায় থাকার অধিকার নেই, এই ছিল অভিযোগ। আবার এমন এক ঘটনায় উত্তাল নেটপাড়া।
অভিযোগ কি?
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এক মহিলার ঘরের ভেতর ঢুকে বিজেপি (bjp) কর্মী কয়েকজন যুবক আক্রমণাত্মকভাবে তাঁকে জেরা করছে। তাদের প্রশ্নের ধরন শুনে চোখ কপালে উঠেছে নেটিজেনদের। ওই মহিলার অপরাধ?ওই যুবকদের অভিযোগ তাঁর বাড়ির তুলসী গাছে জল দেওয়া হয়না তাই তুলসী গাছে ফুল ফুটছে না! ঘরের ভিতর ঢুকে গিয়ে তারা ঠাকুরঘর দেখতে চায়। সেখানে ঢুকে তাদের প্রশ্ন ঘরের ঠাকুর ঘর কেন পরিষ্কার নয়? ঠাকুর ঘরে কেন মাত্র একটিই ঠাকুরের ছবি রাখা হয়েছে? এমনকি তারা মহিলাকে ক্রিশ্চান বা বিধর্মী বলে হেনস্থা করে।
ধর্মের নামে গুন্ডামি?
এর আগে বিজেপিশাসিত (bjp) বিহার বা উত্তরপ্রদেশ থেকে এরকমভাবে ধর্মের নামে হেনস্থার কথা শোনা যেত। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গেও এমন ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠেছে সমাজ মাধ্যমে। সাধারণ মানুষের বক্তব্য,”একজন মানুষ তাঁর ঈশ্বরকে কীভাবে ডাকবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর নিজের ব্যাপার। সেখানে কিছু অতি-উৎসাহী রাজনৈতিক কর্মী বাড়ির ভেতরে ঢুকে ছড়ি ঘোরাবে, এটা কোনো সভ্য দেশে মেনে নেওয়া যায় না। তাছাড়া যারা এটা জানে না যে তুলসীগাছে ফুল হয় না, তাদের থেকে ধর্মের পাঠ নিতে হবে?” এই ঘটনার পর জনমনে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কখনও তুলসী গাছ কখনও পরিবারের মানুষকে নিয়ে প্রশ্ন, এরপর হয়তো খাবার বা পোশাক নিয়েও হেনস্তা হতে হবে।


