Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) ফল প্রকাশের প্রায় তিন সপ্তাহ পর শনিবার প্রথমবার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বের হন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর এবং কলকাতার বেলেঘাটায় ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত দুই তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কর্মসূচি ছিল তাঁর।
এদিকে দুপুরে অভিষেকের হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ আবাসনে পৌঁছয় রাজ্য সিআইডি-র একটি দল। বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সই সংক্রান্ত তদন্তের সূত্রেই এই পদক্ষেপ বলে জানা যায়। তবে বাড়ির কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা সিআইডিকে জানান, অভিষেক বাড়িতে নেই। এর কিছুক্ষণ পর সোনারপুরে পৌঁছতেই তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রথমে স্লোগান দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ কালো পতাকা দেখায়, ডিম, জুতো ও ঢিল সহ বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারা হয়। নিরাপত্তার কারণে অভিষেককে হেলমেট পরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁর জামাও ছিঁড়ে যায়।
ঘটনার পর অভিষেক অভিযোগ করেন, পুলিশকে আগেই সম্ভাব্য অশান্তির কথা জানানো হয়েছিল। তারপরও এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে বিক্ষোভ উপেক্ষা করেই তিনি নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সোনারপুরে ঢোকার আগেই বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের প্রস্তুতি দেখা গিয়েছিল। কোথাও ডিম হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন মহিলারা, কোথাও কালো পতাকা নিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিচ্ছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
জানা গিয়েছে যে, এদিন চারচাকা গাড়ির বদলে বাইকে চড়ে এলাকায় প্রবেশ করার সময়ই সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক। কলকাতার বেলেঘাটা থেকে সোনারপুর যাওয়ার পথে কালীঘাটে গিয়ে সিআইডি-র নোটিসও গ্রহণ করেন তিনি। তবে সোনারপুরে প্রবেশের আগেই পাটুলির ঢালাই ব্রিজ থেকে কামরাবাদ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ দেখা যায়। কালো পতাকা হাতে তাঁরা অভিষেককে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন এবং রাস্তার ধারে অবস্থান বিক্ষোভ চালান।


