Aaj India Desk, হাওড়া : হাওড়ার ডোমজুড় এলাকায় তোলাবাজি ও অবৈধ মাটি কাটার (Illegal Soil Mining) অভিযোগে তৃণমূলের আরও দুই স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ ঝাপড়দহ অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শেখ লতিফ। এর আগে একই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ডোমজুড় পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ জয়দীপ বর্মন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পুরনো তোলাবাজির মামলার তদন্তে মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রথমে জয়দীপ বর্মনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্তের ভিত্তিতে তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও আটক করা হয়।
মাটি মাফিয়া যোগের অভিযোগ
ধৃত শেখ লতিফের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার (Illegal Soil Mining) অভিযোগ ছিল। স্থানীয়ভাবে তাঁকে “মাটি মাফিয়া” হিসেবেও চিহ্নিত করা হত বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন এলাকা থেকে অনুমতি ছাড়া মাটি কেটে তা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিল একটি চক্র। নির্মাণ কাজ ও জমি ভরাটের জন্য ওই মাটি সরবরাহ করা হত। পাশাপাশি স্থানীয় জমির মালিক, ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
ডোমজুড়-জগতবল্লভপুরে নজরে মাটি চক্র
হাওড়ার ডোমজুড় ও জগতবল্লভপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ মাটি কাটার (Illegal Soil Mining) অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, কৃষিজমি থেকে নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে। ভূমি দপ্তরের অনুমতি ছাড়া মাটি উত্তোলন ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয়। তদন্তকারীরা এখন দেখছেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত ছিলেন এবং আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ কত।
উল্লেখ্য, স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পঞ্চায়েত স্তরের একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দুর্নীতি ও জমি সংক্রান্ত অভিযোগে পুলিশি অভিযান চলেছে। ডোমজুড়ের এই ঘটনাতেও তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। ধৃতদের আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অবৈধ মাটি কাটার চক্র, আর্থিক লেনদেন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসতে পারে বলেও দাবি পুলিশের।


