Aaj lndia Desk, কলকাতা: সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে বেকার যুবকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) নেতা অজিত মাহাতো (Ajit Mahato)। বন দফতরে (Forest Department) স্থায়ী চাকরি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঝাড়গ্রাম (Jhargram) থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। তদন্তের প্রয়োজনে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
চাকরির আশ্বাসে শুরু আর্থিক লেনদেন
ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবা (Bachurdoba) এলাকার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সি সজল দাস (Sajal Das) এই ঘটনার অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, অজিত মাহাতো নিজের রাজনৈতিক পরিচয় এবং রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথা বলে বন দফতরে স্থায়ী সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট চারবারে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরির কোনও ব্যবস্থা হয়নি। এমনকী, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরেও টাকা ফেরত মেলেনি বলে দাবি করেছেন সজল।
টাকা ফেরত চেয়ে উল্টে হুমকির অভিযোগ
অভিযোগকারীর বক্তব্য, নিজের দেওয়া টাকা ফেরত চাইতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি আরও ২ লক্ষ টাকা চাওয়া হয় বলে অভিযোগ। একই পদ্ধতিতে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অন্য বেকার যুবকদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
রাতের অভিযান, বাড়ি থেকেই গ্রেফতার
ঘটনাটি নিয়ে গত ২৯ তারিখ ঝাড়গ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (Bharatiya Nyaya Sanhita) ৩১৮(২), ৩১৮(৪), ৩০৮(৫), ৩৫১(৩), ১১১(৩) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা শুরু হয়। এরপর তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটে নাগাদ অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গোপীবল্লভপুর (Gopiballavpur) কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন অজিত মাহাতো। স্থানীয় স্তরে জমি সংক্রান্ত কারবারের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে বলে পরিচিতি রয়েছে।
তদন্তে পুলিশের নজরে আরও কারা?
এই ঘটনায় শুধু ১০ লক্ষ টাকার লেনদেন নয়, আরও বড় কোনও প্রতারণার চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই কায়দায় কতজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেই অর্থ কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর পিছনে অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।


