Aaj India Desk, কলকাতা: দিল্লির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের (UN) মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর (OHCHR) উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এবার সেই মন্তব্যের বিরোধিতা করল ভারত (India)। নয়াদিল্লির বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংস্থার এই উদ্বেগের কোনও ভিত্তি নেই। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে এ ধরনের মন্তব্যকে অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেছে কেন্দ্র।
জেনিভায় রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে দেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ভারতের সংবিধানে শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে নাগরিকদের। তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই অধিকারের উপর যুক্তিসঙ্গত কিছু বিধিনিষেধ থাকতে পারে।
ভারতের স্থায়ী মিশনের পোস্টে বলা হয়েছে, দিল্লির সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে OHCHR-এর মন্তব্য ভারতের নজরে এসেছে। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে সংবিধান নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ জমায়েতের অধিকার দিয়েছে। পাশাপাশি, দেশের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যম মানুষের এই অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভারতের আরও বক্তব্য, অন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলির মতো এ দেশেও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শান্তিপূর্ণ জমায়েতের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানতে হয়। প্রশাসন আইন মেনেই কাজ করে। কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে কারও অভিযোগ থাকলে বা কেউ অসন্তুষ্ট হলে, তিনি বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।
রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগের জবাবে ভারত জানিয়েছে, এই মন্তব্য ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এমন মন্তব্য করা উচিত নয় বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।
শুধু দিল্লির ঘটনা নিয়ে মন্তব্য নয়, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে বড় বিক্ষোভের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারত। ভারতের স্থায়ী মিশনের বক্তব্য, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হওয়া বড় বিক্ষোভের দিকেও একইভাবে নজর দেওয়া উচিত। কোনও নির্দিষ্ট ঘটনা বা দেশকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া ঠিক নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে ভারত।
উল্লেখ্য, দিল্লিতে বিক্ষোভের জেরে জাতীয় রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংস্থার মন্তব্য সামনে আসে। এর আগে OHCHR একাধিকবার জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রক্ষা করা জরুরি। প্রশাসন এই ধরনের জমায়েতের উপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা আইনসম্মত হতে হবে। একই সঙ্গে, পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী এবং যুক্তিসঙ্গত কারণেই এমন পদক্ষেপ করা উচিত।
তবে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। দেশের সংবিধান ও আইন মেনেই শান্তিপূর্ণ জমায়েতের অধিকার কার্যকর হয়। প্রশাসনও আইন মেনেই পদক্ষেপ করে। কোনও অভিযোগ থাকলে নাগরিকদের আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগের জবাবে এই যুক্তিগুলিই তুলে ধরেছে ভারত।


