Aaj India Desk,কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনে প্রথম বক্তৃতাতেই চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন অভিনেতা-রাজনীতিক তথা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। নিজের চিরাচরিত ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে একটি ছড়া পাঠ করেন, যা ঘিরে অধিবেশন কক্ষে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়ের বহুল আলোচিত ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ কবিতার লাইনকে ধার করে রুদ্রনীল বলেন, “রানি আছেন টেনশনে, তাল কেটেছে সব গানে। এপাং ওপাং ঝপাং সবাই, কোথায় কে যাবে ভাই, কে জানে?” সাম্প্রতিক ‘ডিম’ বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “রাস্তাঘাটে উড়ছে ডিম, মুরগিছানা আসমানে, ভবিষ্যতের গল্প খারাপ, তাই রানি আছেন টেনশনে।”
শুধু কবিতাতেই থেমে থাকেননি রুদ্রনীল। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বাজেট আলোচনা চলাকালীন তিনি শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে শিল্পীদের অনুদান দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। তিনি বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির উন্নতির জন্য “বিষাক্ত শ্যাওলা” দূর করা প্রয়োজন এবং সরকারি অর্থ খরচের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি থাকা দরকার।
রুদ্রনীলের সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ ছিল কীর্তন শিল্পীদের অনুদান প্রকল্প নিয়ে। তাঁর দাবি, ২০১৬ সাল থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষ কীর্তন শিল্পীকে মাসিক অনুদান দেওয়া হলেও তাঁদের মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষই ছিলেন ভুয়ো শিল্পী। অভিযোগ, শিল্পীর পরিচয়ে বহু তৃণমূল কর্মী সরকারি অর্থ পেয়েছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, গত এক দশকে এই খাতে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা অপচয় বা দুর্নীতি হয়েছে।
রুদ্রনীলের এই বক্তব্য ও কবিতা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। শাসক-বিরোধী তরজার মাঝেই তাঁর প্রথম বিধানসভা ভাষণ এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।


