Aaj India Desk, কলকাতা: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে সোমবার ফের ইডি (ED)-এর মুখোমুখি হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে সকাল ১১টায় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি ইডি দফতরে পৌঁছে যান। দফতরে ঢোকার সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইডির জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হওয়ার প্রায় ৯ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও দফতরের ভিতরেই রয়েছেন।
তবে এদিন সিজিও কমপ্লেক্সে দেখা গেল একেবারেই অন্য ছবি। আগে যখনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তলবে হাজির হতেন, তখন গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হতো। অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকত। কিন্তু সোমবার তেমন কোনও বাড়তি নিরাপত্তা চোখে পড়েনি। সাংবাদিক কিংবা সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও কোনও বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। ফলে আগের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক পরিবেশ দেখা গিয়েছে সিজিও চত্বরে।
রবিবারও দীর্ঘ সময় ধরে জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল অভিষেককে। বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে ভবানী ভবনে সিআইডি আধিকারিকরা তাঁকে প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেই সময় বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও ডেকে এনে দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। জেরা শেষ হওয়ার পর রবিবার রাতে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে যান। এরপরও জিজ্ঞাসাবাদের পর্ব থামছে না। মঙ্গলবার ফের সই জালিয়াতি মামলায় তাঁকে সিআইডির সামনে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, সল্টলেকে দায়ের হওয়া একটি পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবারও তাঁকে জেরা করতে চায় রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা।
যদিও সই জালিয়াতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে, একই সঙ্গে আগামী দু’সপ্তাহের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দিয়েছে। তবে সোমবারের নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত এবং বুধবারের সল্টলেক সংক্রান্ত মামলায় তাঁর কাছে এমন কোনও আদালত-প্রদত্ত সুরক্ষা নেই।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে বহুদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে ইডি। এর আগে সিবিআই তদন্ত চলাকালীন একটি অডিও ক্লিপ সামনে আসে। সেই অডিওতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে নেওয়া অর্থ এক ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’-এর কাছে পাঠানোর উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই তাদের চার্জশিটেও সেই অডিওর কথা উল্লেখ করে।
এই অডিওর সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে ‘কালীঘাটের কাকু’ নামে পরিচিত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠস্বরের নমুনাও পরীক্ষা করা হয়েছিল। এবার সেই বিতর্কিত অডিও ক্লিপকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে ইডি। শুধু অডিও নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর আর্থিক লেনদেনও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। সংস্থার বিভিন্ন আর্থিক নথি, লেনদেনের তথ্য এবং আগের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবার তাঁকে বিস্তারিতভাবে জেরা করা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।


