Aaj India Desk, কলকাতা : জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার হামিম মণ্ডল মামলায় বড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। আজই ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হামিমের ঘনিষ্ঠ পরিচিত অর্পিতা সরকারকে (Arpita Sarkar)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামিমের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের সূত্র ধরেই অর্পিতার সন্ধান মেলে। শনিবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে তোলা হবে। সেখানে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাবে STF।
অডিও ক্লিপ ও অ্যাপের মাধ্যমে মিলতো নির্দেশ
STF সূত্রের দাবি, হামিম ও অর্পিতার মধ্যে হওয়া একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন থেকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তদন্তকারীদের মতে, ওই চ্যাটে হামিমকে বিভিন্ন ধরনের “অ্যাসাইনমেন্ট” দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে। আজ হামিম ও অর্পিতাকে (Arpita Sarkar) মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
তদন্তকারীদের দাবি, হামিম ও অর্পিতা পাকিস্তান থেকে অডিও ক্লিপ এবং বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ পেতেন। হামিম ও অর্পিতা বিভিন্ন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তা পাকিস্তানে পাঠাতেন বলেও অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
ডার্ক ওয়েব ও কট্টরপন্থী গ্রুপের খোঁজে তদন্ত
STF-এর দাবি, হামিম সামাজিক মাধ্যমে একাধিক কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং সেখানে নিয়মিত সক্রিয় থাকত। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, পুলওয়ামা হামলার অন্যতম অভিযুক্ত সাজ্জাদ ভাটের নেটওয়ার্কের সঙ্গে কীভাবে তার যোগাযোগ হয়েছিল। অন্যদিকে জিজ্ঞাসাবাদে হামিমের কাছ থেকে পাকিস্তানি গ্যাংস্টার থেকে জঙ্গি সংগঠনের সদস্য হয়ে ওঠা শাহজাদ ভাট্টি ওরফে ‘রানা ভাই’-এর নামও উঠে এসেছে। ওই যোগাযোগের মাধ্যমেই হামিমের আন্তর্জাতিক জঙ্গি চক্রের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হয়েছিল কি না তাও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, এই শাহজাদ ভাট্টির নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে দিল্লি, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং নয়ডা থেকে ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবার হামিমের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের যোগও সামনে এসেছে। অর্পিতা সরকারের (Arpita Sarkar) গ্রেপ্তারের পর তদন্ত এখন মূলত ডিজিটাল যোগাযোগ এবং রাজ্যের ভিতরে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের দিকে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। আদালতে হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর হলে দু’জনকে একসঙ্গে জেরা করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।


