Aaj India Desk, জলপাইগুড়ি : একের পর এক কলেজে ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষের মাঝেই এবার ভয়াবহ কাণ্ড। SFI ও ABVP এর সংঘর্ষের জেরেই জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কলেজে ক্লাস চলাকালীন গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। সোমবার ইতিহাসের ক্লাস চলার সময় ঘটনাটি ঘটে। সহপাঠীরা কোনওমতে ওই ছাত্রকে আটকান। খবর পেয়ে কলেজে পৌঁছয় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে কলেজে উত্তেজনা ছড়ায়।
ক্লাসের মধ্যেই কেরোসিন ঢাললেন ছাত্র
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার প্রথম বর্ষের ইতিহাসের ক্লাস চলছিল। আচমকাই ওই ছাত্র নিজের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে দেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি বুঝতে পেরে সহপাঠীরা তাঁকে ধরে ফেলেন। ক্লাসে থাকা শিক্ষক দ্রুত কলেজের অধ্যক্ষকে খবর দেন। এরপর অধ্যক্ষ-সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ওই ছাত্রকে ক্লাসরুম থেকে বের করে কলেজের অফিসঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
‘পরীক্ষা দিতে বাধা, মারধর করা হচ্ছে’
ওই ছাত্রের দাবি, তিনি কলেজের SFI সদস্য। তাঁর অভিযোগ, কলেজে পরীক্ষা চলছে। কিন্তু ABVP-র সদস্যরা SFI কর্মীদের পরীক্ষায় বসতে বাধা দিচ্ছেন এবং মারধর করছেন। সেই কারণেই তিনি বাধ্য হয়ে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলেছেন বলে দাবি করেন।
ABVP-র পাল্টা দাবি
অন্যদিকে, ছাত্রটির অভিযোগ অস্বীকার করেছে ABVP। সংগঠনের দাবি, পুরো ঘটনাটিই সাজানো। তাঁদের প্রশ্ন, “কলেজে আসার সময় কোনও ছাত্র কেন সঙ্গে করে কেরোসিন তেল নিয়ে আসবেন? আমরা কোনও ছাত্রকে মারধর বা হুমকি দিই নি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংগঠনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
অধ্যক্ষ কী বললেন?
কলেজের অধ্যক্ষ দেবাশিস দাস বলেন, “কী কারণে এমন ঘটনা, তা জানার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে যে ঘটনা ছাত্রটি ঘটাল, সেটা নিন্দনীয়। তাঁদের মারধর করা হয়েছে বলে ছাত্রটি যে অভিযোগ করছে, সেই সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ আমার কাছে করেনি।”
ঘটনার পর কলেজ চত্বরে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে ঠিক কী কারণে ওই ছাত্র এমন পদক্ষেপ নিলেন এবং কেরোসিন কীভাবে তাঁর কাছে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


