নয়াদিল্লি: ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP-র কর্মসূচিতে (CJP protest) যোগ দিতে কলেজ পড়ুয়াদের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করলেন বিজেপির দুই বিধায়ক। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলনে অংশ নিলে প্রতিদিন ১০০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি, এক জনকে মাসে ৯৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। আর এই অভিযোগ সামনে আসতেই আন্দোলনের অর্থের উৎস নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
রবিবার সন্ধ্যায় আরামবাগে সাংবাদিক বৈঠক করে এই অভিযোগ তোলেন আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ এবং পুড়শুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ। তাঁদের দাবি, বিষয়টি শুধু টাকা দেওয়ার প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ নয়। এর পিছনে বিদেশি অর্থের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দিনে ১০০ ডলার! মাসে কত দাঁড়াচ্ছে অঙ্ক?
বিজেপি বিধায়কদের দাবি অনুযায়ী, কথোপকথনে আন্দোলনে (CJP protest) যোগ দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিদিন ১০০ ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ডলারপ্রতি প্রায় ৯৫.৮৭ টাকা ধরলে, দিনে সেই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৯,৫৮৭ টাকা। ৩০ দিনে তা বেড়ে হয় প্রায় ২ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা।
কিন্তু বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে মাসে ৯৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার পৃথক অভিযোগ। এই বিপুল অঙ্কের প্রস্তাব কাকে, কী কারণে এবং কোন সূত্রে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
অর্থাৎ, একদিকে প্রতিদিন ডলার দেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে মাসে বিপুল অর্থের প্রতিশ্রুতির দাবি, দুটি বিষয় ঘিরেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তবে এই অঙ্কগুলি বিজেপি বিধায়কদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সামনে এসেছে; এগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
কলেজ পড়ুয়ার কাছ থেকে তথ্য? সামনে স্ক্রিনশট
বিমান ঘোষের দাবি, পুড়শুড়া বিধানসভা এলাকার এক কলেজ পড়ুয়ার কাছ থেকে তাঁরা এই বিষয়ে জানতে পেরেছেন। ওই পড়ুয়ার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁর নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রমাণ হিসেবে কয়েকটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন দুই বিজেপি বিধায়ক। তাঁদের অভিযোগ, আরামবাগের মতো প্রান্তিক এলাকার পড়ুয়াদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে আন্দোলনে (CJP protest) যোগ দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এমনকি, কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলেও অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
তবে স্ক্রিনশটগুলির সত্যতা, কথোপকথনের প্রেক্ষাপট এবং প্রস্তাবের সঙ্গে CJP-র কোনও প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বিদেশি টাকার যোগ? বাংলাদেশকে ঘিরেও প্রশ্ন
এই অভিযোগের সূত্র ধরেই বিদেশি অর্থের জোগান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি বিধায়করা। বাংলাদেশ-সহ বিদেশের কোনও সূত্র থেকে আন্দোলনের জন্য টাকা আসছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন বিমান ঘোষ।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও CJP-র আন্দোলনের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলেও কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে তদন্তের আনুষ্ঠানিক বিবরণ বা বিদেশি অর্থের যোগ প্রমাণিত হওয়ার কোনও চূড়ান্ত ফলাফল এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল অর্থের প্রস্তাবের উৎস কোথায়? উত্তর পেতে প্রয়োজন কথোপকথনের সত্যতা যাচাই, অর্থের লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য।
ভোটার তালিকা নিয়ে আন্দোলন, এবার নজরে অর্থের উৎস
CJP-র আন্দোলনের (CJP protest) অন্যতম দাবি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন সংগঠনের সমর্থকেরা। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এবার সেই আন্দোলনকে ঘিরেই অর্থের জোগান নিয়ে নতুন বিতর্ক। বিজেপির দুই বিধায়কের অভিযোগ কতটা সত্য, কথোপকথনের স্ক্রিনশট কী প্রমাণ করে এবং বিদেশি অর্থের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তার উত্তর এখনও অজানা।
আপাতত অভিযোগ বনাম যাচাই, এই দুইয়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে CJP-র আন্দোলন (CJP protest) ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রামাণ্য তথ্যই হতে পারে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


