Aaj India Desk, কলকাতা: দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যেও মনের কষ্ট চেপে রাখতে পারলেন না কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। চারবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরেও এ বার পুজোর সময় নিজের বিধানসভা এলাকায় যেতে পারেননি তিনি। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক, সন্ত্রাস এবং নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগ তুলে নিজের দুঃখের কথা প্রকাশ্যে জানালেন মদন।
শুধু তাই নয়, বর্তমান রাজনীতির পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। রাজনীতির প্রতি বিরক্তি জানিয়ে মদন স্পষ্ট বলেছেন, আর রাজনীতি করতে চান না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। মদন মিত্রের দাবি, এবারের পুজোর মতো এতটা কষ্ট তিনি আগে কখনও অনুভব করেননি। তাঁর কথায়, চারবারের বিধায়ক হয়েও নিজের এলাকায় যেতে না পারাটা তাঁর কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ রয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি জানান, অস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে তাঁর আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে ঈশ্বরের কাছেই আশ্রয় খুঁজেছেন তিনি।
নিজের যন্ত্রণার কথা বোঝাতে গিয়ে মদন বলেন, এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম দুর্গাপুজোয় নিজের কেন্দ্র থেকে দূরে থাকতে হল তাঁকে। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি জীবনের এক গভীর আঘাত হিসেবেই দেখছেন।
‘রাজনীতিকে এখন ঘৃণা করি’, বিস্ফোরক মদন
রাজনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন কামারহাটির বিধায়ক। তাঁর মতে, রাজনীতির মধ্যে ভালো মানুষের তুলনায় খারাপ প্রবণতা বেশি বেড়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছেও নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা কমছে বলে দাবি করেন তিনি। মদনের কথায়, মানুষ এখন রাজনীতিবিদদের উপর আগের মতো ভরসা করতে পারছেন না। তাই তিনিও আর রাজনীতিতে থাকতে চান না।
এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মদন মিত্র। চার মাসের মুখ্যমন্ত্রীকে কেন ফ্লোর টেস্টের কথা বলতে হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, দলের ভিতরেই কি তা হলে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে? তবে এই মন্তব্যের পিছনে ঠিক কোন পরিস্থিতির কথা তিনি বলতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
মমতা ও শুভেন্দুকে বিজয়ার শুভেচ্ছা
রাজনীতি নিয়ে এত ক্ষোভের মধ্যেও বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি মদন মিত্র। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী—দু’জনকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, এ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে কোনও উপহার পাননি বলেও জানিয়েছেন মদন। তাঁর কথায়, হয়তো মমতা মনে করেছেন, সেই উপহার তাঁর আর প্রাপ্য নয়। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি। বিশেষ করে অভিষেকের চোখের সমস্যা যেন দ্রুত ঠিক হয়ে যায়, সেই কামনাই করেছেন মদন।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আবহে মদন মিত্রের বক্তব্যে উঠে এসেছে নিজের এলাকায় যেতে না পারার গভীর আক্ষেপ, রাজনীতির প্রতি অনীহা এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন। তাঁর এই মন্তব্য আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনও আলোচনা তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার।


